অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিতে নতুন পদক্ষেপ, ভুয়ো নাম বাদ দিতে শুরু সমীক্ষা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক স্বাবলম্বী করতে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT) পাঠানো শুরু হবে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, রাজ্যের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বর্তমান প্রাপকদের এই নতুন সুবিধার জন্য আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হবে না। তবে প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে তালিকায় থাকা ভুয়ো ও মৃত নাম বাদ দিতে রাজ্যজুড়ে ‘মিশন মোড’-এ জোরদার সমীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন।
ভোটার তালিকা মিলিয়ে নাম যাচাইয়ের কাজ
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উপভোক্তার মৃত্যুর পরেও অ্যাকাউন্টে সরকারি ভাতার টাকা চলে যাচ্ছে, কিংবা অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। এই ধরণের অসঙ্গতি দূর করতে ব্লক ও পৌরসভা স্তরে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও (BLO)-দের ময়দানে নামানো হয়েছে। বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা (SIR) মিলিয়ে মৃত বা স্থানান্তরিত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজ করছেন। এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত এবং যোগ্য মহিলারাই যাতে ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পান, তা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে।
২৫ মে-র মধ্যে জেলাশাসকদের রিপোর্ট পেশের নির্দেশ
প্রকল্প চালুর সময়সীমা এগিয়ে আসায় গোটা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শেষ করতে চাইছে রাজ্য। মুখ্যসচিব ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের (DM) কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আগামী ২৫ মে-র মধ্যে এই মাঠপর্যায়ের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করা হয়। স্ক্রিনিং বা ছাঁটাই পর্ব মিটে যাওয়ার সাথে সাথেই চূড়ান্ত উপভোক্তাদের তালিকা প্রস্তুত করে জেলাশাসকরা নবান্নে রিপোর্ট পাঠাবেন। সরকারের এই কড়া ও নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপের ফলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটির রূপায়ণ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিল মহল।
এক ঝলকে
- আগামী ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে।
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান প্রাপকদের এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হবে না।
- তালিকা থেকে ভুয়ো, মৃত ও স্থানান্তরিত উপভোক্তাদের নাম বাদ দিতে ভোটার তালিকা মিলিয়ে ‘মিশন মোড’-এ সমীক্ষা চালাচ্ছেন বিএলও-রা।
- আগামী ২৫ মে-র মধ্যে এই যাচাই প্রক্রিয়া শেষ করে মুখ্যসচিবের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবেন জেলাশাসকরা।
