আইপিএলের শেষলগ্নে বিসিসিআইয়ের কড়া নজরদারি, বিরাটদের স্মার্ট সানগ্লাসেও এবার নিষেধাজ্ঞা! – এবেলা

আইপিএলের শেষলগ্নে বিসিসিআইয়ের কড়া নজরদারি, বিরাটদের স্মার্ট সানগ্লাসেও এবার নিষেধাজ্ঞা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চলতি আইপিএলে ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা ও মাঠের নিরাপত্তা বজায় রাখতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। টুর্নামেন্টের আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি থাকলেও বোর্ডের নজরদারিতে এতটুকু ঢিলেমি নেই। বান্ধবীদের ওপর কড়াকড়ি এবং সোশাল মিডিয়ায় ভ্লগিং বা রিল তৈরিতে নিষেধাজ্ঞার পর এবার ক্রিকেটারদের কিট ব্যাগেও কোপ বসাল বোর্ড। ম্যাচ চলাকালীন যেকোনো ধরনের ‘স্মার্ট সানগ্লাস’ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিরাট কোহলি থেকে শুরু করে অভিষেক শর্মা, আইপিএলের বহু তারকাকেই নিয়মিত বাহারি সানগ্লাস পরে মাঠে নামতে দেখা যায়। তবে সাধারণ চশমার আড়ালে কেউ যেন প্রযুক্তিগত সুবিধা নিতে না পারেন, তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। আধুনিক স্মার্ট সানগ্লাসের মাধ্যমে অনায়াসে লাইভ স্ট্রিমিং, মেসেজ আদান-প্রদান এবং অডিও-ভিডিও কল করা সম্ভব। মাঠের ক্রিকেটাররা যাতে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ রাখতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বিতর্ক এড়াতে বোর্ডের কঠোর অবস্থান

হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। মূলত চলতি টুর্নামেন্ট চলাকালীন রাজস্থান রয়্যালসের ম্যানেজার রোমি ভিন্দেরকে ডাগআউটে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্রিকেট দুনিয়ায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয় এবং ম্যাচ গড়াপেটার মতো গুরুতর আশঙ্কার কথা মাথাচাড়া দেয়। আইপিএলের মতো মেগা টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতেই বিসিসিআই তড়িঘড়ি এই নতুন নির্দেশিকা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও ক্রিকেটারদের অসন্তোষ

বোর্ডের এই লাগাতার কড়াকড়িতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অন্দরে কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর আগে বান্ধবীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করায় হার্দিক পাণ্ডিয়াসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা ও ম্যাচের প্রস্তুতিকে নিশ্ছিদ্র করতেই বোর্ড এই কঠোর নীতি নিয়েছে। টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্তে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের মনসংযোগে কিছুটা প্রভাব ফেললেও, খেলাটিকে পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত রাখাই এখন বিসিসিআইয়ের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *