আঙুলের ছাপেই উধাও ২ কোটি! মালদায় ব্যাঙ্কের সেবাকেন্দ্রের অভিনব প্রতারণা – এবেলা

আঙুলের ছাপেই উধাও ২ কোটি! মালদায় ব্যাঙ্কের সেবাকেন্দ্রের অভিনব প্রতারণা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মালদা: পাসবই আপডেট করার অছিলায় আঙুলের ছাপ (Fingerprint) নিয়ে অভিনব কায়দায় গ্রামবাসীদের প্রায় দু’কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। মালদার ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের নিত্যানন্দপুর গ্রামে এই বিশাল প্রতারণার ঘটনা সামনে আসতেই মাথায় হাত কয়েকশো গ্রামবাসীর।

কীভাবে পাতা হয়েছিল প্রতারণার ফাঁদ?

ইংরেজবাজার শহরের মূল ব্যাঙ্কটি গ্রাম থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায়, বছর দুয়েক আগে নিত্যানন্দপুর গ্রামেই সত্যজিৎ লালা নামের এক ব্যক্তি একটি ব্যাঙ্কিং সেবাকেন্দ্র (CSP) খোলেন। মুন্না নামে একজনকে কর্মী হিসেবেও নিয়োগ করেন। ব্যাঙ্কের যাবতীয় কাজ সহজে হবে ভেবে নিত্যানন্দপুর সহ আশপাশের শ্রীরামপুর, চণ্ডীপুর গ্রামের মানুষ সেখানে যাতায়াত শুরু করেন।

  • ‘লিঙ্ক ফেলিওর’-এর টোপ: অভিযোগ, পাসবই আপডেট করার নাম করে একটি ডিজিটাল গ্যাজেটে গ্রাহকদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হতো। এরপর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘লিঙ্ক নেই’ বা ‘লিঙ্ক ফেলিওর’ বলে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো। ফলে টাকা জমা পড়ল কিনা, তা গ্রাহকরা জানতে পারতেন না।
  • অ্যাকাউন্ট সাফ: এই সুযোগেই ডিজিটাল মাধ্যমে আঙুলের ছাপ কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের অজান্তেই তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নিত প্রতারকরা।

কীভাবে প্রকাশ্যে এল জালিয়াতি?

সম্প্রতি সেবাকেন্দ্রের কর্মীদের সন্দেহজনক আচরণে গ্রামবাসীদের মনে খটকা লাগে। বুধবার তাঁরা সেখানে গিয়ে দেখেন, সেবাকেন্দ্রে তালা ঝুলছে! আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা তড়িঘড়ি ইংরেজবাজার শহরের নেতাজি সুভাষ রোডের মূল ব্যাঙ্ক শাখায় ছুটে যান। নিজেদের অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে চাইতেই তাঁদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। হাজারখানেক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট প্রায় সম্পূর্ণ খালি!

বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জানান, কারও অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ লক্ষ, কারও ১০ লক্ষ, এমনকি একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উধাও হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে গায়েব হওয়া টাকার অঙ্ক প্রায় দু’কোটি।

ব্যাঙ্ক ও প্রশাসনের পদক্ষেপ:

খবর পেয়ে পুলিশ এসে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের শান্ত করে। ওই ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার প্রবীণ কুমার জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা গ্রাহকদের ব্যক্তিগতভাবে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেছি এবং পুলিশের কাছেও ব্যাঙ্কের তরফে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত সত্যজিৎ গা ঢাকা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ওই সেবাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *