আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও এলপিজি সরবরাহে বড় আশ্বাস কেন্দ্রের, জেনে নিন আজকের বাজার দর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর রেশ ধরে ভারতের বাজারেও এলপিজি ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সম্ভাব্য ঘাটতি বা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আমজনতার মনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমানে দেশে অভ্যন্তরীণ এলপিজি সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি আধিকারিকরা জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং গ্যাসের সংকট সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামে আকাশপাতাল ফারাক
দেশের বাজারে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামের মধ্যে বর্তমানে একটি বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে। গত মার্চ মাসে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মাত্র ৬০ টাকা বাড়ানো হলেও, গত ১লা মে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম একধাক্কায় রেকর্ড ৯৯৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। আজকের বাজার দর অনুযায়ী, কলকাতায় ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৯৩৯.০ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩২০২.৫ টাকা। দিল্লিতে এই দাম যথাক্রমে ৯১৩.০ টাকা ও ৩০৭১.৫ টাকা, মুম্বাইতে ৯১২.৫ টাকা ও ৩০২৪.০ টাকা এবং চেন্নাইতে ৯২৮.৫ টাকা ও ৩২৩৭.০ টাকা। এছাড়া বেঙ্গালুরুতে ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম যথাক্রমে ৯১৫.৫ টাকা ও ৩১৫২.০ টাকা, আহমেদাবাদে ৯২০.০ টাকা ও ৩০৯১.০ টাকা, অমৃতসরে ৯৫৪.০ টাকা ও ৩১৭৮.০ টাকা, ভোপালে ৯১৮.৫ টাকা ও ৩০৭৭.০ টাকা এবং আগরতলায় ৯৭৩.৫ টাকা ও ৩৪১৫.৫ টাকা।
ক্রমাগত লোকসান ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে চলতি মাসেই তেল বিপণন সংস্থাগুলো চার দফায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে, যার ফলে প্রতি লিটারে মোট প্রায় ৭.৫ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও গত ১৫ দিন ধরে পেট্রোল, ডিজেল এবং সিএনজির দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীদিনে এলপিজি গ্যাসের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি জ্বালানির দাম বাড়ানো সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলোর লোকসান পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সংস্থাগুলো বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ কোটি টাকা লোকসান করছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, আগে তেল বিপণন সংস্থাগুলোর প্রতিদিন লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা, তবে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর সেই লোকসানের অঙ্ক কিছুটা কমে এখন দৈনিক প্রায় ৬০০ কোটি টাকার কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে।
