‘আমরা সংযত, তাই ওরা অক্ষত’— কার উদ্দেশে এই বার্তা? শমীকের বক্তব্যে চাঞ্চল্য – এবেলা

‘আমরা সংযত, তাই ওরা অক্ষত’— কার উদ্দেশে এই বার্তা? শমীকের বক্তব্যে চাঞ্চল্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া এবং কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে বাইকে চড়ে যাওয়ার সময়ও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করা হলেও গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খণ্ডন করেছে।

বিজেপির সাফাই ও পালটা তোপ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় বিজেপির যোগসূত্র অস্বীকার করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, এই ঘটনার পেছনে বিজেপির কোনো হাত নেই, বরং এটি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’। পূর্বতন সরকারের সময়ের রাজনৈতিক হিংসার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলের নেতারা আজ অক্ষত রয়েছেন। দলের কর্মীদের সংযমের কারণেই বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরা নিরাপদ আছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়েও কটাক্ষ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

সংঘাতের আবহে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

অন্যদিকে, আক্রান্ত হওয়ার পর সোনারপুরে দাঁড়িয়েই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একে ‘ডবল ইঞ্জিনের নমুনা’ বলে কটাক্ষ করে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। হেলমেট থাকার কারণে তিনি বড়সড় চোট থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে জানান। এই ঘটনার সব ভিডিও রেকর্ড রাখা হয়েছে এবং এর প্রতিকার চেয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আক্রান্ত দলীয় কর্মীর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সরবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা ও প্রভাব

ভোট পরবর্তী আবহে এই ধরণের হাই-প্রোফাইল নেতার ওপর হামলা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিজেপির পক্ষ থেকে কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং হিংসার পথ পরিহার করার বার্তা দেওয়া হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমানসেও এর মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *