‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে!’ কালীঘাট থেকে ডিজিটাল যোদ্ধাদের ভোকাল টনিক মমতা-অভিষেকের – এবেলা

‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে!’ কালীঘাট থেকে ডিজিটাল যোদ্ধাদের ভোকাল টনিক মমতা-অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না মেলায় মুষড়ে পড়া কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের কর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখান থেকেই বার্তা দেওয়া হয় যে, নির্বাচনী লড়াই শেষ হয়ে যায়নি, বরং বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ানো হবে।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও নতুন শপথ

বৈঠকে মমতা ও অভিষেক দুজনেই দাবি করেন, তৃণমূল আসলে নির্বাচনে হারেনি, বরং গণনায় কারচুপি করে তাঁদের জোর করে হারানো হয়েছে। পরাজয়ের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কোনো অবস্থাতেই মনোবল ভাঙা চলবে না। দিল্লির আদলে বাংলাতেও ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করার ডাক দিয়ে তাঁরা জানান, বিজেপির বিরুদ্ধে এই রাজনৈতিক লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আইটি সেলের পুনর্গঠন ও রণকৌশল

ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে এদিনের বৈঠকে তৃণমূলের আইটি সেলের পরিকাঠামোতে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। এতদিন এই শাখার একক দায়িত্বে দেবাংশু ভট্টাচার্য থাকলেও, এখন থেকে কোনো নির্দিষ্ট ইনচার্জ রাখা হয়নি। পরিবর্তে একটি শক্তিশালী কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রথম দুই নাম হিসেবে উঠে এসেছে উপাসনা চৌধুরী ও দেবাংশু ভট্টাচার্যের নাম। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দলের প্রচার ও বিরোধীদের আক্রমণের মোকাবিলা করতেই এই সাংগঠনিক রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত

আগামী শুক্রবার কালীঘাটে জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আরও একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলে দ্রুত জনমত গঠন এবং সংগঠনের নিচুতলার কর্মীদের সক্রিয় করতেই এই ধারাবাহিক বৈঠকের আয়োজন। ডিজিটাল যোদ্ধাদের ‘ভোকাল টনিক’ দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তায় নেমে বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন নেতৃত্ব। এই পুনর্গঠন ও আন্দোলনের ডাক আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের লড়াইকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *