‘আমরা হিটলার নই’ পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা আরএসএসের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলের সুরেই সুর মিলিয়ে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত স্পষ্ট জানিয়েছেন, শত্রুতা যতই থাকুক না কেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করা উচিত নয়। হিটলারের স্বৈরাচারী নীতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের আদর্শ ও পথ কখনওই হিটলারের মতো হতে পারে না।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং সংঘের অবস্থান
সীমান্ত সন্ত্রাস ও নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় তলানিতে। এই পরিস্থিতির মাঝেই আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। গত মে মাসে দত্তাত্রেয় হোসাবলে জানিয়েছিলেন, দেশের নিরাপত্তা ও আত্মসম্মান রক্ষা করা যেমন অগ্রাধিকার, তেমনই দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই মন্তব্যের পূর্ণ সমর্থন করে মোহন ভাগবত শনিবার জানান, অবিচার ও স্বৈরাচারকে পরাস্ত করা অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কিন্তু পাশাপাশি ভালো বিষয়গুলিকেও রক্ষা করতে হবে। তাঁর মতে, পাকিস্তানে আজও এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা দেশভাগকে একটি ঐতিহাসিক ভুল বলে মনে করেন এবং ভারতের সংস্কৃতির প্রশংসা করেন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যতের রূপরেখা
বিশ্লেষকদের মতে, আরএসএস নেতৃত্বের এই বার্তার মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় কড়া নীতির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি ভারতের চিরাচরিত সহমর্মিতার পথটি খোলা রাখা। ভবিষ্যতে ভারত যদি কখনও পাকিস্তানকে চরমভাবে পরাজিতও করে, সেই পরিস্থিতিতেও সেদেশের নাগরিকদের শান্তিতে বসবাসের বা আশ্রয়ের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন ভাগবত। এটি মূলত দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও মানবিক যোগাযোগের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। যদিও আরএসএস প্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে সংঘের কোনো স্বাধীন অবস্থান নেই এবং তারা সর্বদা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকবে। তবুও চরম উত্তেজনার মাঝে এই মন্তব্য আগামী দিনে কূটনৈতিক স্তরে আদানপ্রদানের একটি প্রচ্ছন্ন পথ খোলা রাখারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
