‘আমি তো ভোটের আগেই গন্ধ পাই!’ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে রেকর্ড জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত শুভেন্দু – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন কেন্দ্রেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় সুনিশ্চিত বলে জোরালো দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের চলাকালীন নিজের সুপরিচিত ‘রাজনৈতিক ঘ্রাণশক্তি’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটের ফল প্রকাশের আগেই তিনি জয়ের আবহাওয়া টের পেয়ে যান। তাঁর দাবি, দুই কেন্দ্রেই রেকর্ড মার্জিনে শেষ হাসি হাসবে পদ্ম শিবির।
নন্দীগ্রামে নিজের রেকর্ড ভাঙার আশাবাদ ভোটদানের হার পর্যালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, নন্দীগ্রামে ৭০ শতাংশ ভোট পড়ার পর ইতিমধ্যেই বিজেপির ৫০ হাজার ভোটের লিড নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। ২০১৬ সালে নন্দীগ্রামে নিজের পাওয়া ৮২ হাজার ভোটের রেকর্ড এবার ভেঙে যাবে বলে তিনি আশাবাদী। শুভেন্দুর কথায়, “আমি তো ভোটের আগেই গন্ধ পাই। এটুকু বলতেই পারি, ২০১৬-র রেকর্ড এবার ভাঙবে এবং মানুষ ফের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাজ্য সরকারের ওপর বিশ্বাস রাখবেন।” রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও মুখ্যমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে দাবি করেন, নন্দীগ্রামে এবার বিজেপির জয়ের ব্যবধান আগের বারের তুলনায় অন্তত পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরেও জয়ের সমীকরণ প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকা রেজিনগর আসনটিতে বিজেপির সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা থাকলেও শুভেন্দু অধিকারী একেবারে নিরুদ্বেগ। তাঁর দাবি, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী অন্তত ২৫ থেকে ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন। এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য জানান, এলাকার সাধারণ মানুষ ধর্মীয় মেরুকরণের উর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান চান। সংখ্যালঘুরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন তাঁরা কারখানা চান, যার ফলে রেজিনগরের হিসাবও এবার বিজেপির দিকেই ঝুঁকছে।
বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে নজর ৯ অক্টোবরের দিকে ভোটে রিগিং ও বুথ দখলের বিষয়ে বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে শুভেন্দু জানান, নন্দীগ্রাম বা রেজিনগর কোথাও বিরোধীদের প্রকৃত রাজনৈতিক অস্তিত্ব নেই। বহু বুথে তাঁদের এজেন্ট পর্যন্ত ছিল না এবং যাঁদের প্রচারে নামানো হয়েছিল তাঁরা সকলেই বহিরাগত।
আগামী ৯ তারিখ উপনির্বাচনের ভোট গণনা। শুভেন্দু অধিকারীর এই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী ও রাজনৈতিক অনুমান কতটা মিলল, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
