‘আমি মা সারদা, আমিই শ্রী চৈতন্য!’ — মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি অগ্নিমিত্রার – এবেলা

‘আমি মা সারদা, আমিই শ্রী চৈতন্য!’ — মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি অগ্নিমিত্রার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বর্তমান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও অপরিহার্য মনে করতেন, কিন্তু বাংলার মানুষ নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন যে রাজনীতিতে কেউই অপরিহার্য নন। রাজ্যজুড়ে চলমান সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলার ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের এই বাকযুদ্ধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

কটাক্ষের মূল কারণ ও বুলডোজার বিতর্ক

বিতর্কের সূত্রপাত রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের সাম্প্রতিক বুলডোজার অ্যাকশন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, হকারদের স্টল ও গরিব মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের চরম মাশুল দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বাংলার মাটি বলপ্রয়োগ বা উচ্ছেদের রাজনীতি সমর্থন করে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের জবাবেই পাল্টা আক্রমণ শানান অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরে বলেন, ২০১১ সালে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এলেও বিগত সরকার মানুষের মৌলিক উন্নয়ন অপেক্ষা ক্ষমতা ধরে রাখা এবং বেআইনি কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দিতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি ওয়াও মোমোর কারখানার জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে পুকুর বুঁজিয়ে ফেলার প্রসঙ্গ টেনে পূর্বতন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের উদাসীনতাকে দায়ী করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তীক্ষ্ণ আক্রমণাত্মক মন্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলবে। একদিকে যেমন পূর্বতন সরকারের আমলের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক শিথিলতাকে সামনে এনে বর্তমান সরকার নিজেদের উচ্ছেদ অভিযান ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের কৌশল নিয়েছে বিরোধী শিবির। অগ্নিমিত্রা পলের “হয় কাজ করো নাহলে ভ্যানিশ হয়ে যাও” মন্তব্যটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান প্রশাসন পূর্বতন সরকারের নীতি থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে কঠোর প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক পথেই হাঁটতে চাইছে। এই রাজনৈতিক মেরুকরণ আগামী দিনে জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *