আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি বানচালের নেপথ্যে ইরানের কট্টরপন্থীরা, চরম সংকটে মোজতবা খামেনেই! – এবেলা

আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি বানচালের নেপথ্যে ইরানের কট্টরপন্থীরা, চরম সংকটে মোজতবা খামেনেই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘদিন ধরে চলা আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এক চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও শেষ মুহূর্তে কট্টরপন্থীদের তীব্র বিরোধিতায় পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সরকারি আধিকারিকদের একটি বড় অংশ শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী গোষ্ঠী কোনোভাবেই এই চুক্তি মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আপসের পথে হাঁটলে ইরানের অন্দরেই বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ বা বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চুক্তি রুখতে মরিয়া কট্টরপন্থীরা

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের কট্টরপন্থী শিবিরের একটি বিরাট অংশ আমেরিকার সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই বিরোধীদের মধ্যে দেশটির সংসদের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের পাশাপাশি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তারা জনসভা ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে চলেছেন, যাতে সরকার আলোচনার টেবিল থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের কারণে মার্কিন প্রশাসনও বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে দীর্ঘ বৈঠকের পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটেননি।

অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের নেতৃত্ব চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মোজতবা খামেনেইয়ের একটি পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কট্টরপন্থীরা সরাসরি মাঠে নেমেছে। সম্প্রতি ইরানের রক্ষণশীল ধর্মগুরু ও আইনপ্রণেতা হামিদ রাসাই মোজতবাকে ইঙ্গিত করে ধর্মীয় উপমা টেনে কড়া সমালোচনা করেছেন, যা তাদের মধ্যকার গভীর ফাটলকে প্রকাশ্যে এনেছে। একদিকে ইরানের শীর্ষ নেতা বাঘের ঘালিবাফ ও প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তারা আমেরিকাকে বিশ্বাস করেন না এবং বর্তমানে আলোচনার আর কোনো জায়গা নেই। অন্যদিকে বহু শীর্ষ আধিকারিক প্রকাশ্যে আমেরিকাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথা বলছেন। এই দ্বিমুখী নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ঐতিহাসিক সুযোগটি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এক触-উত্তেজক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *