আসন্ন মহাবিপদ? কেন ৪টি জিনিস ব্যবহারে রাশ টানার আর্জি জানালেন মোদী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অপরিশোধিত তেল, সোনা, ভোজ্য তেল এবং সারের ব্যবহার কমানোর বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। গত ১০ মে হায়দরাবাদের এক জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সরকার।
রেকর্ড আমদানি ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ
২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে দেখা গেছে, এই চারটি প্রধান পণ্যের মোট আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৪০.৭ বিলিয়ন ডলারে। এটি ভারতের মোট আমদানি বিলের প্রায় ৩১.১ শতাংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত চার বছরে এই আমদানি খরচ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০২১ অর্থবছরে যেখানে এই ব্যয় ছিল ১১২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৬ অর্থবছরে তা ২৪০.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। সবথেকে বেশি ব্যয় হয়েছে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে (১৩৪.৭ বিলিয়ন ডলার), এরপরই রয়েছে সোনা (৭২ বিলিয়ন ডলার), ভোজ্য তেল (১৯.৫ বিলিয়ন ডলার) এবং সার (১৪.৫ বিলিয়ন ডলার)।
বিকল্প ব্যবস্থা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী মোদী সাধারণ মানুষকে জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি আগামী এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এড়ানোর আহ্বান জানান। জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে ইলেকট্রিক যানবাহনের ওপর জোর দেওয়া, গণপরিবহন ব্যবহার করা এবং কার-পুলের মতো পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কৃষকদের ক্ষেত্রে ডিজেলচালিত পাম্পের বদলে সোলার পাম্প ব্যবহার এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংকটের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জনগণের এই সচেতনতা ও স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টা সফল হলে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির যেকোনো বড় সংকট মোকাবিলা করা দেশের জন্য সহজ হবে।
