আসামে মিলল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জ্যান্ত বোমা! সেনার তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল তিনসুকিয়া

আসামের তিনসুকিয়া জেলার লেডো-লেখাজল অঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমলের একটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায় জং ধরা এই বোমাটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পাওয়া মাত্রই ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়।
সেনাবাহিনীর সফল অভিযান
প্রায় ১২ ইঞ্চি দীর্ঘ এবং ৬ ইঞ্চি ব্যাসের এই শক্তিশালী বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে সেনাবাহিনীর ‘রেড শিল্ড স্যাপার্স’-এর একটি বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের দলটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বোমাটি উদ্ধার করে লোকালয় থেকে দূরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়, যার ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান ঝুঁকি
তিনসুকিয়ার এই ঘটনা উত্তর-পূর্ব ভারতের সেই ঐতিহাসিক সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন এই অঞ্চলটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সামরিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। মাটির নিচে বা লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই ধরণের পুরোনো বিস্ফোরকগুলো আজও স্থানীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেনাবাহিনীর দ্রুত এবং সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
এক ঝলকে
- আসামের তিনসুকিয়া জেলার আবাসিক এলাকা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমলের একটি জীবন্ত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
- বোমাটির দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি ও ব্যাস ৬ ইঞ্চি ছিল, যা যেকোনো সময় বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারত।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ দল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিষ্ক্রিয় করেছে।
- এই অভিযানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাটি সাময়িকভাবে খালি করা হয়েছিল।
