গণনাতেও নজিরবিহীন কড়াকড়ি! কারচুপি রুখতে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে কমিশন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নজিরবিহীন নিরাপত্তার পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। ভোটগণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সমস্যাহীন রাখতে রাজ্যে অতিরিক্ত ১৬৫ জন গণনা পর্যবেক্ষক (কাউন্টিং অবজারভার) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত গণনাকেন্দ্রের ভেতর ও বাইরের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করাই কমিশনের প্রাথমিক লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক
গণনা কেন্দ্রের চারপাশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন করে ৭৭ জন পুলিশ অবজারভার মোতায়েন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা এবং গণনাকেন্দ্রের বাইরে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি নজরদারিকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই এই বিশাল বাহিনী নামানো হচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, গণনা চলাকালীন যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
উত্তেজনা ও কারচুপির অভিযোগ
দ্বিতীয় দফার ভোটের পর থেকেই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রংরুম ও ব্যালট বক্সের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিসিটিভি বিহীন ঘরে ব্যালট বক্স রাখার মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা নিয়ে শুক্রবার গভীর রাতেও এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। এই ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত ও অভিযোগের পাহাড় সামাল দিতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি এই বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের এই তৎপরতার ফলে আশা করা হচ্ছে যে, গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো যান্ত্রিক বা প্রশাসনিক ত্রুটি থাকবে না। কিউআর কোড যুক্ত কার্ডের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোটগণনা পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- ভোটগণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মোট ১৬৫ জন গণনা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা তদারকিতে অতিরিক্ত ৭৭ জন পুলিশ অবজারভার মোতায়েন থাকছে।
- গণনাকেন্দ্রের বাইরে রাজনৈতিক সংঘাত ও অনিয়মের অভিযোগ মোকাবিলায় এই কঠোর পদক্ষেপ।
- কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে।
