“তৃণমূলকে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে হবে!” ভোট মিটতেই বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর, দিলেন সন্ধির প্রস্তাব!

“তৃণমূলকে হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে হবে!” ভোট মিটতেই বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর, দিলেন সন্ধির প্রস্তাব!

ভোটের ফল প্রকাশের আগেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজস্ব দল গড়ে নির্বাচনে লড়লেও, ভোট মিটতেই ফের শাসক শিবিরের প্রতি নরম সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। শনিবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সঙ্গে সরকার গঠনে শামিল হতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে এই সন্ধির জন্য শাসক দলকে ‘হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাওয়ার’ মতো নজিরবিহীন শর্ত দিয়েছেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক।

শর্তসাপেক্ষ সমর্থনের বার্তা

তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব মিটিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তৃণমূল যদি নিজেদের ভুল স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে আর দুর্নীতি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবেই তিনি সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হলেও ফল প্রকাশের প্রাক্কালে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতেই এই কৌশল নিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিলেও ভোটের ঠিক আগে বড় অংশের প্রার্থীর সরে যাওয়া হুমায়ুনের দলকে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে।

নেতৃত্বকে আক্রমণ ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

সন্ধির প্রস্তাব দিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণে বিদ্ধ করতে ছাড়েননি হুমায়ুন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাতের ভিডিও ভাইরাল হওয়া এবং দলের সাংগঠনিক বিপর্যয়ের পর রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতেই এই ধরনের মন্তব্য করছেন তিনি। এই ডিগবাজি আদতে শাসক শিবিরের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা নাকি পুনরায় ঘরে ফেরার আগাম প্রস্তুতি, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।

এক ঝলকে

  • বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীর তৃণমূলের সঙ্গে সরকার গঠনে সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
  • শর্ত হিসেবে তৃণমূলকে দুর্নীতি নিয়ে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
  • ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিলেও ভোটের আগে প্রার্থীরা সরে যাওয়ায় হুমায়ুনের দল সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
  • তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি কড়া সমালোচনা বজায় রেখেই এই সন্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *