ফের কি বিশ্ব দেখবে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ? ট্রাম্প প্রস্তাব খারিজ করতেই তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি!

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের আগে তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে না, কারণ তারা ভবিষ্যতে একই সংকটের পুনরাবৃত্তি চায় না। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের ফলে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা যেমন ফিকে হয়ে পড়েছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ছায়া ঘনীভূত হচ্ছে।
তেহরানের হুঁশিয়ারি ও রণকৌশল
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর মুখ খুলেছে ইরান। দেশটির সেনা সদর দপ্তরের উপপ্রধান মহম্মদ জাফর আসাদি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, আমেরিকা যেকোনো নতুন অভিযান চালালে ইরানি সেনাবাহিনী তার কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত। তেহরানের দাবি, আমেরিকার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রচারণার মাধ্যমে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ অগোছালো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। ইরান মনে করে, ওয়াশিংটন আদতে কোনো টেকসই চুক্তিতে আগ্রহী নয়।
মার্কিন পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সেন্টকমের একটি রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় করতে সেখানে ছোট আকারের অথচ অত্যন্ত বিধ্বংসী হামলার পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। বিশেষ করে ইরানের পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে দেশটিকে পরমাণু ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করাই ওয়াশিংটনের কৌশল। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পুরো অঞ্চল এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দিয়েছেন।
- মার্কিন আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে ইরানি সেনাবাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
- ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে দেশটির অবকাঠামো লক্ষ্য করে সীমিত মারণ হামলার পরিকল্পনা করছে।
- পাকিস্তানের মাধ্যমে চালানো মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
