ইডি-র বড় তথ্য! ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

ইডি-র বড় তথ্য! ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লাখ, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ পাস’ ও ইউনেস্কোর (UNESCO) নাম ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মের তদন্তে নেমে নতুন তথ্য সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।

১০ ঘণ্টার জেরার পর বিস্ফোরক তথ্য দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ও টিকিট বিক্রি কাণ্ডে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইন্দ্রনীল সেনকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ইডির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়:

  • নগদ জমার পাহাড়: মন্ত্রীত্বকালে ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ জমা পড়েছিল।
  • ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন: ওই একই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।
  • ‘রয়্যালটি’র দাবি: জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ইন্দ্রনীল দাবি করেন, এই টাকা রয়্যালটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কোন কাজ বা সৃষ্টিকর্মের জন্য এই রয়্যালটি, তা ইডির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। যদিও বিবৃতিতে এই লেনদেনকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, তবে তদন্তের অংশ হিসেবে এটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৮৫ কোটি টাকার টেন্ডার ও ‘মাসআর্ট’ বিতর্ক ইডির নজরে কেবল ওই ৩০ লক্ষ টাকাই নয়, পুরো আর্থিক ব্যবস্থার গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে:

  • ঘনিষ্ঠদের টেন্ডার: ইন্দ্রনীল সেন পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরে থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ধ্রুবজ্যোতি বোস ও দীপেশ রায়ের সংস্থাগুলি ৮৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি টেন্ডার পায়। পরবর্তীতে ওই সংস্থাগুলি থেকে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের সংস্থায় টাকা যায় বলে ইডির দাবি।
  • লাখ টাকার টিকিট বিক্রি: ‘মাসআর্ট’-এর মাধ্যমে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে ১ লক্ষেরও বেশি প্রিভিউ শোর টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এই টিকিট বিক্রির লভ্যাংশ কোথায় গিয়েছে, তাও ইডির নজরে।

রাজনৈতিক তরজা ও প্রতিক্রিয়া ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল নেতা মদন মিত্র বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্দ্রনীল সেনের থেকে টাকা নিয়েছেন—এটা ভাবাই যায় না।” অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “এটাকে রয়্যালটি না বলে কাটমানি বলাই শ্রেয়। ঘটনার মূল নেপথ্যে কার হাত ছিল, তা এবার স্পষ্ট।”

ইডি সূত্রের খবর, প্রিভিউ পাস ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ঘোরানো হয়েছে এবং এর পেছনে আর কারা যুক্ত ছিলেন, তা স্পষ্ট করতেই তদন্তের গতি বাড়ানো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *