ইতিহাসের চাকা ঘুরে মস্কোয় নতুন সমীকরণ, এবার রাশিয়ার হাত ধরল তালিবান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের পরাশক্তিদের পরাস্ত করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে আফগানিস্তানের। একসময় যাদের হাত থেকে বাঁচতে আফগান মাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল রুশ বাহিনী, সময়ের পরিবর্তনে সেই তালিবান সরকারের সঙ্গেই এবার বড়সড় সামরিক চুক্তি সম্পন্ন করল ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া। গত ২৭ মে মস্কোতে তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি সের্গেই শোইগুর মধ্যে এই হাই-প্রোফাইল প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
চুক্তির ভেতরের কথা ও সামরিক আধুনিকীকরণ
এই সামরিক চুক্তির আওতায় রাশিয়া তালিবান বাহিনীকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও আধুনিক ড্রোন সরবরাহ করবে। পাশাপাশি, আধুনিক যুদ্ধকৌশলে আফগান বাহিনীকে দক্ষ করে তুলতে রাশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞরা বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। প্রাথমিকভাবে এই চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস (ISIS)-এর যৌথ মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই চুক্তির পেছনে মস্কোর অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে।
ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব ও ইউক্রেন কানেকশন
সুদীর্ঘ সময় ধরে তালিবানকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে তাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। ইউক্রেন যুদ্ধে এর আগে বিদেশি ভাড়াটে সেনা এবং উত্তর কোরিয়ার সাহায্য নেওয়ার পর, এবার তালিবানের সঙ্গে রাশিয়ার এই চুক্তিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, রাশিয়া এই বিপুল পরিমাণ আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি তালিবানকে বিনামূল্যে দেবে না। সরকারিভাবে স্বীকার না করা হলেও, ইউক্রেন রণক্ষেত্রে তালিবানি যোদ্ধাদের পরোক্ষ ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো বড় সহায়তার বিনিময়েই মস্কো এই সামরিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
