ইরানের জবাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’, আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের – এবেলা

ইরানের জবাব ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’, আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি ট্রাম্পের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের পাঠানো পাল্টা জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানের পাঠানো ওই প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হামলার না করার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের এই অবস্থান তার পছন্দ হয়নি, যা বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে বর্তমানে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। তবে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক লড়াই চললেও মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হবে না। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংলাপে বসার ইঙ্গিত দিলেও জানিয়েছেন যে, তারা কোনোভাবেই শত্রুর সামনে মাথা নত করবেন না।

হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা

বর্তমান সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান বর্তমানে এই প্রণালিটি অবরোধ করে রেখেছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ জারি রেখেছে। তেহরান সতর্ক করেছে যে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া এই পথে কোনো জাহাজ চলাচল করলে ‘কঠোর পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা প্রস্তাবে এই নৌপথে অবাধ চলাচল পুনরুদ্ধারের শর্ত দেওয়া হলেও ইরান তা মানতে নারাজ।

সামরিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা মিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। তবে ইরান এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এদিকে, গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন করে শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মার্কিন মালিকানাধীন জাহাজ ও আরব মিত্রদের আকাশসীমা।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং নেতানিয়াহুর অনড় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ট্রাম্প এর আগে হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান চুক্তিতে না আসলে আগের চেয়েও ভয়াবহ আকারে বোমা হামলা শুরু করা হবে। সোমবার ৪০টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক থেকে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নতুন কোনো রূপরেখা আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ফলে আলোচনার টেবিলের চেয়ে যুদ্ধের ময়দানই এখন বেশি সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *