ইরানের সঙ্গে দূরত্ব কমবে কি? শান্তি বৈঠকের আগেই ভ্যান্সের কড়া বার্তা!

ইরান-মার্কিন শান্তি আলোচনা: দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে কি ফিরবে স্থিতাবস্থা?

যুদ্ধবিরতির আবহে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ছাপিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছেন দুই দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

অবিশ্বাস কাটানোই বড় চ্যালেঞ্জ

শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে যে গভীর অবিশ্বাস দানা বেঁধেছে, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। ভ্যান্সের এই মন্তব্যে যেমন বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনই শান্তি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণাঙ্গ সমঝোতায় পৌঁছাতে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার প্রয়োজন।

ইসলামাবাদে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই আলোচনার পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার আবারও মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয় পক্ষ। আলোচনার স্থান হিসেবে আবারও ইসলামাবাদকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই বৈঠকের আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

প্রথম দফার সেই ২১ ঘণ্টা ও আসাম্পূর্ণ চুক্তি

এর আগে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে টানা ২১ ঘণ্টা কূটনৈতিক তৎপরতা চলেছিল। আলোচনার কৌশল ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। তিনটি পৃথক কক্ষে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা অবস্থান করছিলেন, আর মাঝে ছিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী দল। সেই সময় ৮০ শতাংশ কাজ এগিয়ে গেলেও, শেষ মুহূর্তে কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে শান্তিচুক্তি অধরাই থেকে যায়। তবে সেই ব্যর্থতাকে আঁকড়ে না ধরে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রতিনিধিদলে কারা থাকছেন?

শান্তি আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উভয় পক্ষই তাদের শীর্ষ নেতাদের পাঠাচ্ছে। ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফসহ ৭০ সদস্যের একটি দল। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

এক ঝলকে

  • দ্বিতীয় দফার আলোচনা: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ভ্যনসের বার্তা: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস একরাতের আলোচনায় দূর করা চ্যালেঞ্জিং।
  • আলোচনার স্থান: আলোচনার ভেন্যু হিসেবে আবারও পাকিস্তানের ইসলামাবাদকে নির্বাচন করা হয়েছে।
  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক যোগাযোগ।
  • আগের অভিজ্ঞতা: প্রথম দফায় টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে সমঝোতা ভেস্তে গিয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *