ইরান কূটনীতিতেই বিশ্বাসী, পোপ লিও-কে বার্তা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের মাঝেই ভ্যাটিকানের সাথে তেহরানের এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান পোপ লিও-এর “নৈতিক অবস্থানের” ভূয়সী প্রশংসা করে জানিয়েছেন যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানে বদ্ধপরিকর। পোপের কাছে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেন, তেহরান আলোচনা ও বৈধ উপায়ের পক্ষে থাকলেও নিজের আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।
ইরানি রাষ্ট্রপতির এই বার্তা মূলত আমেরিকা ও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত অবস্থান। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করেছে। এমতাবস্থায় ওয়াশিংটনের ‘অবৈধ দাবি’ ও ‘ঝুঁকিপূর্ণ নীতির’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
ভ্যাটিকান বনাম ট্রাম্পের সংঘাত
এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে রয়েছে ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধ। পোপ লিও প্রতিনিয়ত নিরীহ মানুষের ওপর হামলাকে ধর্মবিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে আসছেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পোপের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, পোপ যেন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার পক্ষে পরোক্ষ সমর্থন দিচ্ছেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পোপ অসন্তুষ্ট হলেও আমেরিকা কখনো ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেবে না।
পোপের প্রতি ইরানের এই সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে ইরান নিজেকে আন্তর্জাতিক আইনের অনুসারী ও শান্তির দূত হিসেবে প্রমাণ করতে চাইছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের কট্টর অবস্থান পশ্চিমা মিত্রদের সাথে ভ্যাটিকানের দূরত্ব বাড়াতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পোপের নৈতিক অবস্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইরান বিশ্বমঞ্চে মার্কিন একাকীত্বকে আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এক ঝলকে
- ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান পোপ লিও-এর শান্তিকামী ও নৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করে বার্তা পাঠিয়েছেন।
- তেহরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানে জোর দিলেও নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
- আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান।
