উত্তরের বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির নতুন ত্রাতা কি এবার ভারত! ফরাসি ভূমিতে দাঁড়িয়ে মোদীর মেগা হুঙ্কার – এবেলা

উত্তরের বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তির নতুন ত্রাতা কি এবার ভারত! ফরাসি ভূমিতে দাঁড়িয়ে মোদীর মেগা হুঙ্কার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ফ্রান্সের নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিশ্বজুড়ে ভারতের প্রযুক্তিগত ও উদ্ভাবনী শক্তির এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান, ভারত আর শুধু প্রযুক্তির সাধারণ ভোক্তা বা ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বরং আজ স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও গবেষণার হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে অন্যতম প্রধান সমাধান প্রদানকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ভারত। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তাদের ভারতের এই অগ্রগতির সঙ্গী হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

ডিএনএ-তে উদ্ভাবন ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ হাব

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিক পরিকাঠামোর এক মেলবন্ধন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, যোগ ও গণিতের মাধ্যমে হাজার হাজার বছর ধরে মানবসভ্যতার উন্নয়নে অবদান রেখেছে ভারত। আর সেই ধারাবাহিকতায় উদ্ভাবন আজ প্রতিটি ভারতীয়র ‘ডিএনএ’-র অংশ হয়ে উঠেছে। বিগত ১২ বছরে দেশের উদ্ভাবনী পরিকাঠামো আমূল বদলে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিদ্যালয় স্তরে ‘অটল টিঙ্কারিং ল্যাব’ স্থাপন, পেটেন্ট প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং শক্তিশালী ইনকিউবেশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উদ্ভাবনকে একেবারে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ সক্রিয় রয়েছে, যা ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিণত করেছে।

বাণিজ্যিক লাভ নয়, লক্ষ্য যখন বিশ্বকল্যাণ

এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মূল কারণ হিসেবে দেশের তরুণ প্রজন্মের মানসিকতার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতের তরুণ সমাজ এখন কেবল ব্যবসায়িক মুনাফার কথা ভাবছে না, তারা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশের এই বিপুল পরিবর্তনের জেরে আগামী দিনে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও সুদূরপ্রসারী হতে চলেছে। দ্রুত গতি ও বৃহৎ পরিসরে কাজের মাধ্যমে ভারত বিশ্বমঞ্চে এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উঠে আসছে, যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। বৈশ্বিক এই মেলবন্ধনকে আরও জোরদার করতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *