উল্টে গেল মামলা: স্ত্রীর বিরুদ্ধেই স্বামীকে মারধরের প্রমাণ, ব্যাঙ্ককর্মীকে জামিন দিল আলিপুর আদালত

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা ও ভ্রূণ নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগে শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল স্বামীকে। কিন্তু মামলার শুনানিতে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগকারিণী স্ত্রী নিজেই আসলে স্বামীর ওপর দিনের পর দিন ‘গার্হস্থ্য হিংসা’ চালাতেন বলে প্রমাণ পেশ করা হলো আদালতে। সব দিক খতিয়ে দেখে আলিপুর দায়রা আদালতের বিচারক বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ হাজার টাকার দুই জামিনদারের শর্তে ধৃত স্বামী শুভম শর্মাকে জামিনের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বাসিন্দা শুভম শর্মার সঙ্গে কলকাতার নেতাজিনগরের প্রগতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিয়ে হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। বৈবাহিক সাইট থেকে আলাপ হওয়া এই দম্পতি বিয়ের পর কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। গত নভেম্বরে প্রগতি বাপের বাড়িতে ফিরে এসে অভিযোগ করেন যে, শুভম তাঁকে মারধর করেছেন এবং জোর করে তাঁর গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্ট করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নেতাজিনগর থানার পুলিশ পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী শুভমকে গ্রেফতার করে।
আদালতে পেশ করা চাঞ্চল্যকর তথ্য
মামলার শুনানিতে শুভমের আইনজীবী রাজেশ ক্ষেত্রী আদালতে ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য নথিপত্র পেশ করে দাবি করেন, শুভমই আসলে তাঁর স্ত্রীর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার। আইনজীবীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী:
- শুভমকে কোমরের বেল্ট দিয়ে মারধর করতেন তাঁর স্ত্রী প্রগতি।
- অশান্তির মূলে ছিল শুভমের কাজের চাপ। অফিস আওয়ারের পর বাড়িতে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন স্ত্রী।
- ভ্রূণ নষ্ট করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার স্বপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ অভিযোগকারিণী দিতে পারেননি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
অভিযোগকারিণী প্রগতির আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, শুভম তাঁকে জোর করে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং ভ্রূণ হত্যার জন্য তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন। তবে সরকারি কৌঁসুলির পেশ করা নথি এবং উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে বিচারক মনে করেন, শুভমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। বরং ভিডিও ফুটেজে নির্যাতনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা স্বামীর বিপক্ষেই যায়। এর পরেই আদালত শুভমের জামিন মঞ্জুর করে।
এই মামলাটি বর্তমানে ‘রিভার্স ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স’ বা পুরুষের ওপর গার্হস্থ্য হিংসার এক বিরল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতি ও আইনি মহলে।
