উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে আইনি প্যাঁচে অভিষেক, একে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছে তৃণমূল! – এবেলা

উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে আইনি প্যাঁচে অভিষেক, একে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলছে তৃণমূল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভোটের উত্তাপ মিটলেও কাটেনি রাজনৈতিক সংঘাত। এবার নির্বাচনী জনসভায় উস্কানিমূলক ও হুমকিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে আইনি জটিলতায় জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। তবে এই আইনি পদক্ষেপকে পুরোপুরি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল।

গত ১৫ মে রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি অভিষেকের বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীর দাবি, মার্চ ও এপ্রিল মাস জুড়ে মহেশতলা, আরামবাগ, হরিণঘাটা এবং নন্দীগ্রামের বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে বক্তব্য এবং ডিজে বাজানো সংক্রান্ত তাঁর কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই মূলত এই এফআইআর। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিষেকের অফিশিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যগুলো জনমনে শত্রুতা ছড়াতে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে উস্কানি দিয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

তৃণমূলের পাল্টা তোপ ও দ্বিমুখী অবস্থান

এই ঘটনার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল শিবির। দলীয় নেতা তন্ময় ঘোষ সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর মতে, বিরোধী দল বিজেপি নেতাদের মুখেও প্রতিনিয়ত উস্কানিমূলক মন্তব্য শোনা যায়, কিন্তু আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি নেওয়া হচ্ছে। বেছে বেছে শুধু তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি জানান, রাজনীতিতে শালীনতা থাকা উচিত এবং নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই এফআইআর-এর ফলে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার কাদা ছোড়াছুড়ি আরও তীব্র রূপ নিতে পারে। একদিকে বিজেপি যখন এই ঘটনার সূত্র ধরে আইনি ও নৈতিকতার প্রশ্নে তৃণমূলকে চেপে ধরার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে তৃণমূল একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে তুলে ধরে জনসমর্থন আদায়ের কৌশল নিতে পারে। সাইবার ক্রাইম শাখার এই তদন্ত আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *