ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি কেন? স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন হাইকোর্টের! – এবেলা

ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি কেন? স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর প্রশ্ন হাইকোর্টের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলায় স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্পিকার তড়িঘড়ি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: শুনানির সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “কোন পক্ষ আসল রাজনৈতিক দল তা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের আগেই স্পিকার তড়িঘড়ি দলের একটি অংশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ঘোষণা করলেন এবং একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন—এটি আমি বুঝতে পারছি না।” আদালতের মতে, অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্তের ওপর আপাতত স্থগিতাদেশ দেওয়া যেতে পারে। আজ বুধবার বেলা ৩টেয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

আইনি লড়াই: স্পিকারের পক্ষে সওয়াল করেন এএজি বিল্বদল ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জয়দীপ কর এই মামলার অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেন। তিনি মহারাষ্ট্রের একনাথ শিন্ডে মামলার উদাহরণ টেনে দাবি করেন, দলত্যাগ বিরোধী আইন (দশম তফসিল) এখানে প্রযোজ্য নয়, কারণ কোনো দলত্যাগ বিরোধী পিটিশন ঝুলে নেই। আদালত তাঁর এই যুক্তি আপাতত মেনে নিলেও, স্পিকারের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেখেছেন।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, তৃণমূল পরিষদীয় দলের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতা হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ তার আগেই তৃণমূল নেতৃত্ব ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল। বহিষ্কৃত একজন বিধায়ককে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ায় স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন শোভনদেব। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ না মেলায় তিনি ডিভিশন বেঞ্চের শরণাপন্ন হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *