ঋতুস্রাবের অসহ্য যন্ত্রণায় ম্যাজিকের মতো কাজ করে যোগব্যায়াম! জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুস্থ শরীর ও প্রশান্ত মনের জন্য যোগব্যায়াম অপরিহার্য হলেও অনেকের ধারণা ঋতুস্রাব বা পিরিয়ডসের সময় এটি করা উচিত নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পরিমিত মাত্রায় যোগব্যায়াম করা এই সময়ে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এটি মহিলাদের মারাত্মক ক্র্যাম্প বা ব্যথা কমাতে আক্ষরিক অর্থেই জীবনদায়ী ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই সময়ে ভারী বা কঠিন আসন এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ অতিরিক্ত পরিশ্রমে মাথা ঘোরা বা বমির মতো অস্বস্তি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
হরমোনের ভারসাম্য ও শারীরিক প্রভাব
পিরিয়ডসের সময় যোগব্যায়াম শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন প্রাকৃতিকভাবে ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে যন্ত্রণা উপশম করে। পাশাপাশি যোগাসনের ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ায় পিরিয়ডসের ক্র্যাম্প ও মাইগ্রেনের মতো সমস্যাগুলি দূরে থাকে। শারীরিক কার্যকলাপের এই প্রভাব হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা, ঋতুচক্র নিয়মিত করা, পিএমএস বা প্রাক-ঋতুস্রাবজনিত লক্ষণ কমানো এবং এন্ডোমেট্রিয়োসিস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
যন্ত্রণা উপশমে কার্যকরী আসন ও ঘরোয়া উপায়
প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু যোগাসন পিরিয়ডসের শারীরিক বাধা কাটাতে অত্যন্ত কার্যকর। ‘বালাসন’ বা চাইল্ডস পোজ কোমর ও নিতম্বের পেশি প্রসারিত করে তলপেটের ব্যথা থেকে আরাম দেয়। ‘মার্জারিয়াসন ও বিটিলাসন’ মেরুদণ্ডের জড়তা কাটিয়ে তলপেটের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোতে হালকা মালিশের অনুভূতি তৈরি করে। অন্যদিকে ‘ভুজঙ্গাসন’ পেলভিক অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ক্র্যাম্প শান্ত করতে সাহায্য করে। এই আসনগুলির পাশাপাশি আদা, ক্যামোমাইল বা পেপারমিন্টের মতো ভেষজ উপাদানের ব্যবহার এবং তলপেটে গরম সেঁক প্রয়োগ করলে প্রদাহ কমে এবং দ্রুত স্বস্তি মেলে।
