একতরফা প্রেমের নৃশংসতা! নাবালিকাকে গাছে বেঁধে চরম নির্যাতন, তোলপাড় পুলিশ মহলে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের হরদোই জেলার বেনীগঞ্জ কোতয়ালী থানা এলাকায় একতরফা প্রেমের জেরে এক ১৭ বছর বয়সী নাবালিকার ওপর ভয়াবহ ও অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গত ১১ মে রাতে কাকার বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে গ্রামেরই অতুল নামের এক যুবক ওই নাবালিকাকে জোরপূর্বক নির্জন স্থানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মেয়েটিকে একটি গাছে বেঁধে লাঠি, লাথি ও ঘুষি মেরে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়। নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে অভিযুক্ত যুবক নাবালিকার ওপর যৌন নিপীড়ন চালায় এবং কামড়ে তার শরীরের গোপন অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর কোনোমতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাবালিকাটি বাড়ি ফিরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। নির্যাতিতার পরিবার প্রথমে স্থানীয় পুলিশের দ্বারস্থ হলে পুলিশ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং একটি সাধারণ মারামারির মামলা রুজু করে দায় সারে। প্রথম দফার মেডিকেল রিপোর্টেও গোপন অঙ্গের গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে নিরুপায় পরিবার ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করলে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
চাপের মুখে পড়ে পুলিশ পুনরায় মামলা দায়ের করে নির্যাতিতাকে দ্বিতীয়বার মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠায়, যেখানে তার শরীরে ছয়টি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই নৃশংস ঘটনার মূল কারণ অভিযুক্ত যুবকের দীর্ঘদিনের একতরফা প্রেম ও বিয়ে করার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা, যা নাবালিকাটি বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার মূল অভিযুক্ত অতুলকে গ্রেপ্তার করেছে এবং নতুন মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলায় আরও কঠোর ধারা যুক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের হরদোই জেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে ১৭ বছরের নাবালিকাকে অপহরণ।
- বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গাছে বেঁধে নির্যাতন ও গোপন অঙ্গে কামড়ে নৃশংস ক্ষতবিক্ষত করার অভিযোগ।
- প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের গাফিলতি ও সাধারণ মারামারির মামলা দায়েরের পর সংবাদমাধ্যমের হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা।
- মূল অভিযুক্ত অতুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং নতুন মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে কঠোর ধারায় মামলা রুজু।
