“এক বছর আগে টাকা রেখে যান টুলু”— সাড়ে ২৮ কোটি উদ্ধারের পর ধৃত মিনারের স্ত্রীর চাঞ্চল্যকর দাবি – এবেলা

“এক বছর আগে টাকা রেখে যান টুলু”— সাড়ে ২৮ কোটি উদ্ধারের পর ধৃত মিনারের স্ত্রীর চাঞ্চল্যকর দাবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বীরভূমের মহম্মদবাজারের ডেউচায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনার বার উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এলাকার পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া নগদ ও সোনা মিলিয়ে মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার গভীর রাত তিনটে নাগাদ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আলমারি ও ঘরের বিভিন্ন গোপন জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও সোনা বের হতে থাকে। উদ্ধার হওয়া নোট গুনতে বুধবার সকালে আনা হয় ৫টি কাউন্টিং মেশিন এবং ৫টি বিশালাকার ট্রাঙ্ক। লোডশেডিংয়ের সমস্যা এড়াতে বিকেলে আনা হয় জেনারেটরও। সংগৃহীত অর্থ ও সোনা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় সিউড়িতে বীরভূমের পুলিশ সুপারের দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) গাইকোয়াড নীলেশ শ্রীকান্ত জানিয়েছেন, পুরো বাড়িটি আপাতত সিল করে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার আকস্মিকতায় মুখ খুলেছেন ধৃত মিনার মণ্ডলের স্ত্রী। তাঁর দাবি, “টুলু মণ্ডল এক বছর আগে এই টাকা রেখে গিয়েছিলেন। আলমারির চাবিও তাঁর কাছেই থাকত। আমাদের সংসার চলে পেনশনের টাকায়, এই সবের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানতাম না।”

এই বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার ছবি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে হাঁটছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মতে, বিগত দিনগুলোতে যারা বেআইনিভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছিল, বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের মুখোশ খুলে যাচ্ছে। পাথরের ব্যবসার আড়ালে এই বিপুল কালো টাকার নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিচালিত হতো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *