‘এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’, ইরানের শিশু মৃত্যু নিয়ে বিদেশের মাটিতেই তোপের মুখে পেন্টাগন!

‘এটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’, ইরানের শিশু মৃত্যু নিয়ে বিদেশের মাটিতেই তোপের মুখে পেন্টাগন!

ইরাকের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় পেন্টাগনের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত এই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়। হামলার দুই মাস পার হয়ে গেলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখন পর্যন্ত দায় স্বীকার বা স্বচ্ছ কোনো তথ্য প্রদান না করায় ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক মহলে অস্থিরতা বাড়ছে।

মার্কিন সম্পৃক্ততার জোরালো ইঙ্গিত

সাবেক মার্কিন সামরিক আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় পেন্টাগনের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সাধারণত বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনায় এক মাসের মধ্যেই প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে মিনাব হামলার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কোনো তথ্য না দিয়ে কেবল ‘তদন্ত চলছে’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিবিসির একটি অনুসন্ধানে বিদ্যালয়টির কাছেই অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ভিডিও ফুটেজ প্রমাণিত হয়েছে, যা এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

জবাবদিহিতার অভাব ও কর্মকর্তাদের উদ্বেগ

সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা রাচেল ভ্যানল্যান্ডিংহামের মতে, বর্তমান প্রশাসনের এই অবস্থান পূর্ববর্তী সরকারগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন, যারা অন্তত যুদ্ধের আইনের প্রতি কিছুটা দায়বদ্ধতা দেখাত। অনেক সাবেক কর্মকর্তা মনে করছেন, যেহেতু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন, তাই পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সত্য প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করছেন। এমনকি হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ পেন্টাগনের এই আচরণকে ‘শোচনীয় এবং সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।

পূর্ববর্তী ঘটনার সাথে বৈসাদৃশ্য

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২১ সালে কাবুলের ড্রোন হামলা বা ২০১৫ সালে কুন্দুজ হাসপাতালের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চেয়েছিল। কিন্তু মিনাব ট্র্যাজেডির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার এই অভাব আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে, তখন তারা আগেই নিশ্চিত থাকে যে ওই এলাকায় তাদের অভিযান সক্রিয় ছিল। ফলে দায় স্বীকার না করাকে কেবল রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক ঝলকে

  • ইরাকের মিনাবে স্কুল হামলায় ১১০ শিশুসহ ১৬৮ জনের মৃত্যুতে পেন্টাগনের নীরবতা নিয়ে বিতর্ক।
  • মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে স্কুলটি ধ্বংস হওয়ার প্রাথমিক ভিডিও প্রমাণ মিলেছে।
  • সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, পেন্টাগনের এই অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব নজিরবিহীন।
  • ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে অবিলম্বে সত্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *