‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ নাকি বড় প্রতারণা? ১৭০টি নামীদামি ব্র্যান্ডকে FSSAI-এর কড়া নোটিস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দোকানে গিয়ে প্যাকেটের গায়ে ‘১০০% পিওর’, ‘ইমিউনিটি বুস্টার’ কিংবা ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ লেখা দেখেই কি পণ্য কিনে ফেলছেন? কিন্তু আপনি যা স্বাস্থ্যকর ভেবে কিনছেন, তা কি আদতে শরীরের জন্য ভালো? এমন বিভ্রান্তিকর চটকদার বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে এবার নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারতের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ামক সংস্থা FSSAI (ফাসাই)। পেপসিকো, কোকা-কোলা, নেসলে, ডাবর এবং রেড বুলের মতো দেশের প্রথম সারির প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০টি বহুজাতিক সংস্থাকে নোটিস ধরানো হয়েছে।
সাধারণত ক্রেতারা প্যাকেটের পেছনের উপাদান (Ingredients) না দেখেই মুখরোচক ও চটকদার কথায় ভরসা করেন। কিন্তু ২০১৮ সালের ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস রেগুলেশন’ অনুযায়ী, উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া স্বাস্থ্যের উপকারিতা নিয়ে কোনো ভিত্তিহীন দাবি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বলে কিছু হয় না! সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। FSSAI পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় খাদ্য আইনে ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ বলে কোনো অফিসিয়াল ক্যাটাগরিই নেই! অথচ রেড বুল, মনস্টার, স্টিং কিংবা ক্যাম্পার মতো পানীয়গুলি শারীরিক শক্তি বাড়ানোর দাবি করে আসছিল। কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া এই দাবি করায় ৬টি বড় ব্র্যান্ডকে নোটিস দেওয়া হয়। FSSAI-এর চাপের মুখে ইতিমধ্যেই পেপসিকো তাদের জনপ্রিয় পানীয় ‘স্টিং’-এর বোতল থেকে ‘এনার্জি’ শব্দটি বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।
‘১০০% ন্যাচারাল’ বা ‘জিরো ময়দা’-র নামে বিভ্রান্তি একইভাবে ‘১০০% পিওর’ বা ‘জিরো ময়দা’-র মতো শব্দগুলিকেও বেআইনি ও বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত করেছে FSSAI। কড়া পদক্ষেপের পর আমওয়ে, ইমামি, ডাবর এবং বন বিস্কুটের মতো সংস্থাগুলি তাদের প্যাকেজিং ও লেবেল বদলাতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রমাণ না দিলে লাইসেন্স বাতিল ও ভারী জরিমানা তবে FSSAI স্পষ্ট করেছে, নোটিস পাঠানো মানেই অপরাধী সাব্যস্ত হওয়া নয়। সংস্থাগুলিকে তাদের দাবির পক্ষে ল্যাব রিপোর্ট ও বৈজ্ঞানিক তথ্য পেশ করার সময় দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো কো ম্পা নি উপযুক্ত প্রমাণ দিতে না পারে, তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল, বাজার থেকে পণ্য বাজেয়াপ্ত এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।
এক নজরে মূল বিষয়গুলি (Key Takeaways):
- অভিযুক্ত ১৭০টি সংস্থা: পেপসিকো, নেসলে, ডাবর, কোকা-কোলা-সহ প্রায় ১৭০টি বহুজাতিক কো ম্পা নি FSSAI-এর আতশকাঁচের নিচে।
- ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ ভুয়া ক্যাটাগরি: ভারতে এই নামের কোনো আইনি অস্তিত্ব নেই, ‘স্টিং’ ইতোমধ্যেই বোতল থেকে সরিয়েছে ‘এনার্জি’ শব্দটি।
- প্যাকেটের গায়ে বদল: ‘১০০% ন্যাচারাল’ বা ‘জিরো ময়দা’ জাতীয় বিভ্রান্তিকর লেবেল বদলাতে শুরু করেছে একাধিক কো ম্পা নি।
- কঠোর শাস্তি: বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ।
