এবার ওড়িশা সীমান্তে আটক গাড়ি, জোড়া এফআইআরের চাপে কি সত্যিই ফেরার কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ? – এবেলা

এবার ওড়িশা সীমান্তে আটক গাড়ি, জোড়া এফআইআরের চাপে কি সত্যিই ফেরার কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১২ নম্বর বরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের খোঁজ মিলছে না কোথাও। এলাকায় তাঁর দেখা নেই, এমনকি মোবাইল ফোনটিও বন্ধ। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন এই প্রভাবশালী নেতা। হকারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় জোড়া এফআইআর দায়ের হতেই তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে মনে করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই আনন্দপুর থানার পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ফেরার নোটিস জারি করা হয়েছে।

সীমানায় পুলিশি তৎপরতা ও গাড়ি আটক

শুক্রবার ওড়িশা সীমান্তবর্তী বেলদা এলাকায় পুলিশের নাকা তল্লাশিতে আচমকাই ধরা পড়ে সুশান্ত ঘোষের গাড়িটি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়িশা সীমানার দিকে যাওয়ার পথে গাড়িটিকে আটক করা হয় এবং সেই সময় গাড়ির ভেতরে কাউন্সিলরের পরিবার উপস্থিত ছিল। এই ঘটনায় সুশান্ত ঘোষের গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত চালকের বিরুদ্ধেও এলাকায় তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের পটভূমি ও সম্ভাব্য প্রভাব

গত ১ জুন আনন্দপুর থানায় সুশান্ত ঘোষ ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে হকাররা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্থানীয় বাজারে নতুন টিন ও শাটারের দোকান তৈরির সময় কোন ব্যবসায়ী কত বড় দোকান পাবেন, তা নির্ধারণ করে একটি ‘রেটচার্ট’ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা মিলিয়ে একেকটি দোকান প্রায় ৬ লাখ টাকায় বিক্রি করা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার পর থেকে পুলিশি তৎপরতা তীব্র করা হয়েছে। ওড়িশা সীমান্তে গাড়ি এবং চালক ধরা পড়ার পর পুলিশি অনুমান, আইনি চাপ এড়াতেই সুশান্ত ঘোষ রাজ্য ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন অথবা ইতিপূর্বেই অন্য কোথাও আশ্রয় নিয়েছেন। ধৃত চালককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, চালককে জেরার মাধ্যমেই ফেরার কাউন্সিলরের বর্তমান অবস্থান ও তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *