এল নিনোর চোখরাঙানিতে বর্ষা নিয়ে বাড়ছে বড় শঙ্কা, এবার কি তবে রক্ষাকবচ হারাল ভারত! – এবেলা

এল নিনোর চোখরাঙানিতে বর্ষা নিয়ে বাড়ছে বড় শঙ্কা, এবার কি তবে রক্ষাকবচ হারাল ভারত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের বর্ষা নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর (El Nino) প্রভাব জোরালো হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই এবার আর পাশে নেই ভারত মহাসাগর। অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর ধাক্কা সামলে ওঠার ক্ষেত্রে ভারত মহাসাগরের যে বিশেষ ভূমিকা ছিল, চলতি ২০২৬ সালে সেই পরিস্থিতি নেই বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ফলে দেশের সামগ্রিক বর্ষা, কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম—সব ক্ষেত্রেই এর একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন খলনায়ক এল নিনো

সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা হাওয়া গরম জলকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পরপর এই হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়লে গরম জল উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে চলে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াই হলো ‘এল নিনো’। গ্রীষ্মকালে ভারতের ভূখণ্ড প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের দিকে ছুটে আসে, যা বর্ষা ডেকে আনে। কিন্তু এল নিনো এই বাতাসের গতিপথকে ভারত থেকে দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে মেঘ ও বৃষ্টির চাকা থমকে যায়। আবহাওয়ার ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ এল নিনোর বছরগুলিতেই ভারতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কমে গিয়েছিল।

হাতছাড়া ভারতের নিজস্ব রক্ষাকবচ

এল নিনো এলেই যে দেশে খরা হবে, বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর নিজেই, যাকে বলা হয় ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD)। যখন পূর্ব আফ্রিকার উপকূলবর্তী পশ্চিম ভারত মহাসাগর উত্তপ্ত হয় এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকের পূর্ব অংশ শীতল থাকে, তখন তাকে ‘পজিটিভ আইওডি’ বলে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে রুখে দিয়ে ভারতে বাড়তি বৃষ্টির জোগান দেয়। যেমনটা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে, সেবার আইওডি এত তীব্র ছিল যে এল নিনোকে হারিয়ে ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছিল। এর বিপরীতে, ২০১৫ সালে আইওডি দুর্বল থাকায় এল নিনো জয়ী হয় এবং দেশজুড়ে তীব্র খরা দেখা দেয়।

চলতি ২০২৬ সালে ভারত মহাসাগরের এই রক্ষাকবচ পুরোপুরি স্তব্ধ। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহের হিসেব অনুযায়ী, আইওডি সূচক মাইনাসে চলে গেছে। আবহাওয়া মডেলগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শীতের আগে এই সূচক নিরপেক্ষই থাকবে। অর্থাৎ, জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মূল বর্ষার মরসুমে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর মতো ক্ষমতা এবার ভারত মহাসাগরের নেই। ফলে এল নিনোর একচ্ছত্র প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে দেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগের মেঘ জমছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *