ঐতিহাসিক জয় নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সূর্যোদয়, কর্মীদের রক্ত-ঘামকে কুর্নিশ জানালেন শুভেন্দু

ঐতিহাসিক জয় নিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সূর্যোদয়, কর্মীদের রক্ত-ঘামকে কুর্নিশ জানালেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল দেশ। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও বজায় রইল গেরুয়া ঝড়ের দাপট। দীর্ঘ লড়াই আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এল ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই জয়কে ‘সোনার বাংলায় নতুন ভোর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাজ্যের জনগণকে প্রণাম জানিয়েছেন।

২০২০ সালে তৃণমূল ত্যাগ করার সময় যে প্রতিজ্ঞা শুভেন্দু করেছিলেন, একুশের নির্বাচনে তা অধরা থাকলেও ছাব্বিশে এসে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো। সোমবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান, এই রায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি জনগণের অটল আস্থার প্রতিফলন। একইসঙ্গে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠ কামড়ে পড়ে থাকা বিজেপি কর্মীদের পরিশ্রম ও আত্মত্যাগকে জয়ের প্রধান কারিগর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তিনি।

সাফল্যের নেপথ্যে সুপরিকল্পিত রণকৌশল

রাজনীতিকদের মতে, ২০২১ সালে ৭৭টি আসনে থমকে যাওয়া বিজেপি কীভাবে ছাব্বিশে এসে ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে ২০০-র কাছাকাছি আসন দখল করল, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে এই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী নিজেই। একুশের হারের পর দমে না গিয়ে বুথ স্তর থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জে’র এই মেজো ছেলেই বর্তমান পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপির প্রধান বাজিগর হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

রাজ্য পুনর্গঠনের অঙ্গীকার

নির্বাচনী ফলের এই বিপুল প্রভাব রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামোতে বড়সড় বদল আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, ভয়ের রাজনীতির পরিবর্তে মানুষ অগ্রগতি ও উন্নয়নকে বেছে নিয়েছেন। ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে বাংলা এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। মূলত কর্মসংস্থান, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতিই এই বিশাল জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এখন নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করাই হবে বিজেপির পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *