“ওরা যুদ্ধে হেরেছে”, ইরানের শান্তি প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে যুদ্ধের মেঘ ওড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের দেওয়া ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানের পর পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা অবসানের যে ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছিল, তা আপাতত ভেস্তে যাওয়ার পথে।
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে জানান, তিনি ইরানের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছেন এবং তা তাঁর মোটেও পছন্দ হয়নি। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের ওপর কড়া নজর রাখছে। কোনোভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করা হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তা ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, আমেরিকা যদি মনে করে ইরান আত্মসমর্পণ করবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। যেকোনো নতুন মার্কিন হামলার যোগ্য জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বিদেশি যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ এবং মার্কিন ‘দাদাগিরি’ বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটি। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ওই অঞ্চলে নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভারতের ওপর প্রভাব
ইরান-আমেরিকা এই সংঘাতের আঁচ বিশ্ব অর্থনীতি ছাপিয়ে ভারতের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এই সংযম জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন যেমন দমে যাওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না, তেমনি ইরানও তাদের অবস্থানে অনড়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব না আসায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও জটিল রূপ নিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
