কয়লাখনিতে বিষাক্ত গ্যাস লিক করে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, ভেতরে আটকে বহু শ্রমিক

আন্তর্জাতিক মহলে চিনের সামরিক অফিসারদের ছদ্মবেশী নজরদারি এবং মোদী সরকারের ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের মেগা ঘোষণার মাঝেই, পূর্ব এশিয়ার এই প্রতিবেশী দেশ থেকে এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা খবর সামনে এল। উত্তর চিনের শানসি প্রদেশের লিউশেনিউ কয়লাখনিতে এক ভয়াবহ গ্যাস দুর্ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত আটজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। খনির ভেতরে আচমকা বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide) গ্যাসের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই চরম বিপত্তি ঘটেছে বলে জানা গেছে। খনির বিষাক্ত অবহাওয়ার জেরে এখনও বহু শ্রমিক মাটির নিচে আটকে রয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং খনির ভেতরে বিপর্যয়
স্থানীয় প্রশাসন ও খনি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার লিউশেনিউ কয়লাখনিতে যখন সাধারণ নিয়মেই ভূগর্ভে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই খনির একটি নির্দিষ্ট পকেটে আচমকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের নিঃসরণ শুরু হয়। রঙহীন এবং গন্ধহীন এই প্রাণঘাতী গ্যাস মুহূর্তের মধ্যে খনির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ায় শ্রমিকেরা শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করেন এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বেশ কয়েকজন শ্রমিক খনির অন্দরেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। প্রাথমিক ধকল সামলে কয়েকজন শ্রমিক বাইরে আসতে পারলেও, খনির গভীরতম অংশে কর্মরত বহু শ্রমিক বিষাক্ত গ্যাসের প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরোতে পারেননি।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ, মূল লক্ষ্য প্রাণের রক্ষা
খনি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় আপদকালীন ব্যবস্থাপনা মন্ত্রক ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল (Rescue Team) ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। বর্তমানে খনি চত্বরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেগা উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং আধুনিক গ্যাস ডিটেক্টর নিয়ে খনির ভেতরে প্রবেশের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। খনির ভেতরের বিষাক্ত বাতাস বাইরে বের করে দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদে জীবন্ত বের করে আনাই এখন উদ্ধারকারী দলের প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিনের খনি নিরাপত্তা নিয়ামক সংস্থা ইতিমধ্যেই এই দুর্ঘটনার পেছনে খনি কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
