কয়েদির প্রেমে পাগল শিক্ষিকা! জেলের স্টাডি রুমে চলত ‘অন্তরঙ্গতা’, পর্দাফাঁস হতেই তোলপাড়

কারাগারের চারদেওয়ালে বন্দি ও শিক্ষিকার গোপন প্রেম এবং অনৈতিক সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে ব্রিটেনে। এইচএমপি আর্লেস্টোক কারাগারে বন্দিদের পাঠদানের দায়িত্ব পাওয়া ৩৬ বছর বয়সী কেলি ডাফি এক কয়েদির প্রেমে পড়ে এই কাণ্ড ঘটান। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি আদালত ওই নারী শিক্ষককে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
গোপন সম্পর্কের নেপথ্যে
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেলি ডাফি ২০২৪ সালের মে মাসে স্কুলে শিক্ষকতা ছেড়ে এই কারাগারে যোগ দেন। সেখানে ৩৮ বছর বয়সী কয়েদি অ্যাশলে গুডরিজের সাথে তার পরিচয় হয়, যা দ্রুত প্রণয়ে রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, পড়াশোনার অজুহাতে স্টাডি রুমে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং সেখানে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন তারা। এমনকি কারাগারের লাইব্রেরিয়ানের কাছেও কেলি তার এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন বলে জানা গেছে।
বিচার ও আইনি পর্যবেক্ষণ
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কেলিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং স্থানীয় আদালতে বিচার শুরু হয়। বিচারক ক্রিস্টোফার পার্কার কেসি রায়ে উল্লেখ করেন, ডাফি জেনেশুনে নিজের পেশাগত অবস্থানের অমর্যাদা করেছেন এবং চরম হঠকারিতার পরিচয় দিয়েছেন। যদিও ওই নারী নিজের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন, তবুও আদালত তার ক্ষমার আবেদন নাকচ করে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই ঘটনার ফলে কারাগারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নৈতিক তদারকি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্পর্কের কারণে কারাগারের ভেতর কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচার করা হয়নি। সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এখন কারাবরণ করছেন, অন্যদিকে কয়েদি গুডরিজের বিরুদ্ধে নতুন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; সে তার নির্ধারিত সাজা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ব্রিটেনের এইচএমপি আর্লেস্টোক কারাগারে কয়েদির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান শিক্ষিকা কেলি ডাফি।
- কারাগারের স্টাডি রুমকে অভিসারের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ মিলেছে।
- আদালত পেশাগত অসদাচরণের দায়ে ৩৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষিকাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
- ঘটনার কারণ হিসেবে পারস্পরিক মোহ ও কারাবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
