কলকাতায় মাওবাদী মাধাইয়ের আত্মসমর্পণ, মূল স্রোতে ফেরার ডাক সহযোদ্ধাদের

দীর্ঘদিন অন্তরালে থাকার পর অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বেছে নিলেন দুর্ধর্ষ মাওবাদী নেতা মাধাই পাত্র। মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি। হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা মাধাই পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। মূলত শারীরিক অসুস্থতা এবং একাকীত্বের কারণেই তিনি অস্ত্র ত্যাগ করে সমাজের মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নেপথ্যের কারণ ও ইনচার্জের ভূমিকা
মাধাই পাত্র জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী দমনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিলেন, তার আগে থেকেই তিনি আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছিলেন। এই বিষয়ে তিনি তাঁর ইনচার্জ মিহির বেসরার সঙ্গে আলোচনা করেন। ইনচার্জের সবুজ সংকেত মেলার পরই তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মাধাইয়ের মতে, লড়াইয়ের ময়দানে শারীরিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠা আসাম্ভব হয়ে পড়ছিল, তাই কাজ করে বাকি জীবন অতিবাহিত করতেই এই পদক্ষেপ।
সহযোদ্ধাদের প্রতি বিশেষ বার্তা
আত্মসমর্পণের পর মাধাই তাঁর প্রাক্তন সহযোদ্ধা ও কমরেডদের প্রতি এক বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, বাকিরাও যেন হিংসার পথ ত্যাগ করে সরকারের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে সুস্থ জীবনে ফিরে আসেন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাওবাদী শক্তি বর্তমানে অনেকটা স্তিমিত। এমন পরিস্থিতিতে মাধাইয়ের মতো অভিজ্ঞ নেতার আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহলসহ অন্যান্য মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। একদিকে যখন কলকাতা পুলিশের জালে ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষিত মাওনেত্রী শ্রদ্ধা বিশ্বাস ধরা পড়ছেন, অন্যদিকে মাধাইয়ের এই আত্মসমর্পণ মাওবাদী আন্দোলনে বড়সড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।
