‘কলকাতায় ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে ভাইপোবাবুর’, খাতা-পেন নিয়ে পুলিশকে বসার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার সভা থেকে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে ফের একবার চাঁছাছোলা ভাষায় তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরাসরি ‘ভাইপোবাবু’র বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি স্থানীয় দুষ্কৃতীদের এলাকাছাড়া করার কড়া প্রশাসনিক বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন জমানায় পুলিশ আর কারও ‘দাস’ হিসেবে কাজ করবে না, বরং অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।
কলকাতা পুরসভা থেকে তথ্য আনার দাবি
ফলতার মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী এক বড়সড় দাবি করেন। তিনি জানান, বিগত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আর্থিক দুর্নীতি ও বেনামে সম্পত্তি তৈরির যে সমস্ত অভিযোগ উঠছিল, তার নথিপত্র সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“মাননীয় ভাইপোবাবু, কালকেই কলকাতা পুরসভা (KMC) থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য নিয়ে এসেছি। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ওঁর এবং ওঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নামে অন্তত ২৪টি বহুমূল্য সম্পত্তি রয়েছে। এই সমস্ত সম্পত্তির উৎস কী, তা এবার তদন্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করতে হবে।”
‘পুলিশকে বলেছি খাতা-পেন নিয়ে বসুন’
এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং বিগত দিনে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া অত্যাচারের বিচার সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে এক নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা:
- অভিযোগের তালিকা প্রস্তুত: পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে খাতা-পেন নিয়ে বসেন এবং সাধারণ নির্বাচনের সময় বা তার আগে আমজনতার পক্ষ থেকে যতগুলি এফআইআর (FIR) ও অভিযোগ জমা পড়েছে, তার সবকটির তালিকা তৈরি করেন।
- আইনি পদক্ষেপ: প্রতিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। কোনো প্রভাবশালী যোগ দেখে তদন্তের গতি কমানো যাবে না।
কোনো গুন্ডা এলাকায় থাকবে না
তৃণমূলের স্থানীয় ‘সিন্ডিকেট’ ও পেশী শক্তির দাপট চিরতরে বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী চড়া সুরে বলেন, “এলাকায় আর কোনো গুন্ডামি বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। কোনো গুন্ডা ফলতা বা ডায়মন্ড হারবারের মাটিতে বুক ফুলিয়ে ঘুরতে পারবে না। আইন নিজের গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের সঠিক জায়গায় পাঠানো হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরণের আক্রমণাত্মক ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন প্রাক্তন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বজায় রাখলেন, ঠিক তেমনই নতুন সরকারের জমানায় নিচুতলার পুলিশ প্রশাসনকেও কড়া ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিলেন।
