চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে ফুটছে বাংলা, রবিবাসরীয় মহাম্যাচে কার মাথায় উঠবে মুকুট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘদিন পর কলকাতা তথা গোটা বাংলা মেতে উঠেছে ডার্বির মহাউন্মাদনায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ৬২ হাজার টিকিটের সবটাই নিঃশেষিত। কাগজে-কলমে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান—দু’দলেরই হাতে একটি করে ম্যাচ বাকি থাকলেও, রবিবারের এই ডার্বি ম্যাচটিই যে চলতি মরশুমের আইএসএলের অলিখিত ফাইনাল হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। লীগ তালিকায় দুই প্রধানই বর্তমানে ২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে গোল পার্থক্যে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে লাল-হলুদ শিবির। পরবর্তী ম্যাচে দু’দলের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে সমস্যা জর্জরিত ইন্টার কাশী ও পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা এসসি দিল্লি হওয়ায়, এই ডার্বির জয়ী দলের হাতেই ট্রফি ওঠার সম্ভাবনা প্রবল।
মাঠের লড়াই ও দুই কোচের মগজাস্ত্র
টানা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ডার্বির আগে মানসিকভাবে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। দলটির স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজো মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেড় বছর আগে যখন তিনি দায়িত্ব নেন, তখন দল টেবিলের তলানিতে ছিল। সেখান থেকে ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছানোকে তিনি ফুটবলারদের মানসিকতার বড় জয় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা প্রতিপক্ষকে নিয়ে না ভেবে নিজেদের ব্যক্তিগত দক্ষতা ও শক্তির ওপর ভরসা রাখছেন। অতিরিক্ত আবেগকে দূরে সরিয়ে রেখে পেশাদার ফুটবল খেলার লক্ষ্য সবুজ-মেরুন শিবিরের।
চোট-আঘাতের উদ্বেগ ও মাঠের বাইরের কড়াকড়ি
ইস্টবেঙ্গল শিবিরে কার্ডের সমস্যায় সৌভিক চক্রবর্তী এবং চোটের কারণে ক্রেসপো খেলতে পারবেন না। তবে চোট নিয়েই দলের স্বার্থে ডিফেন্ডার আনোয়ার আলী মাঠে নামতে চলেছেন। বিপরীতে, মোহনবাগানে চোট সারিয়ে দলে ফিরছেন আপুইয়া। মাঠের ভেতরের এই উত্তেজনার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও থাকছে কড়া নজরদারি। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুবভারতীতে আগের লোগো সরিয়ে বসানো হয়েছে অশোক স্তম্ভ। ম্যাচ দেখতে ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের আসার কথা রয়েছে, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও। ভিভিআইপিদের উপস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে গ্যালারিতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বা বর্ণবিদ্বেষী স্লোগান, টিফো এবং শব্দবাজি রুখতে পুলিশ ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।
