‘কাগজে-কলমে নয়, কাজ চাই বাস্তবে!’ নারীদের নিরাপত্তায় সুপ্রিম কোর্টের মেগা নির্দেশ, অ্যাপ-ক্যাব ও চালকদের জন্য জারি কড়া ফরমান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন ও কঠোর অবস্থান নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একের পর এক গণধর্ষণ ও পাবলিক পার্কে এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের মতো নৃশংস ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রথাগত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা রোখার ওপর জোর দিয়েছেন শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানান, কেবল অপরাধের পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জননিরাপত্তার শেষ কথা হতে পারে না। অপরাধ রুখতে অন্ধকার গলি, অপর্যাপ্ত আলো, বেআইনি মদের দোকান ও খাওয়ার স্টলগুলোর ওপর পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি এবং মাঠে নেমে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক নতুন নিয়মাবলী:
- পরিচয়পত্র প্রকাশ: সরকারি-বেসরকারি বাস, প্রাইভেট ট্যাক্সি, অটো এবং ওলা, উবার, র্যাপিডোর মতো অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চালকদের ড্রাইভার ভেরিফিকেশন (Driver Verification) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গাড়ির ভেতর যাত্রীদের সহজে চোখে পড়ে—এমন জায়গায় চালকের ছবি ও যাচাইকৃত নাম টাঙিয়ে রাখতে হবে।
- ইউনিফর্ম ও সাব-লেটিং বর্জন: সব চালকের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক বা ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক। নিজের গাড়ি বা লাইসেন্স অন্য কাউকে চালাতে দেওয়ার (Sub-letting) প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তি:
নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই নতুন নির্দেশিকায় কোনো প্রকার গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনটি তাৎক্ষণিকভাবে বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স বাতিল বা তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে।
পুরো বিষয়টি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করতে দিল্লি পুলিশের প্রধান এবং মুখ্য সচিবকে একটি বিশেষ ‘কন্ট্রোল-রুম কমান্ড সেন্টার’ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
