কালীঘাটে মমতার ‘পোস্টমর্টেম’, গরহাজির দেব-রচনা-কোয়েল! তুঙ্গে ভাঙনের জল্পনা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ফলাফল প্রত্যাশামতো না হওয়ায় এবং বিপর্যয়ের নেপথ্য কারণগুলি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি কালীঘাটে নিজের বাসভবনে সাংসদদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতারা বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও, আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে একঝাঁক তারকা সাংসদ ও নেতার অনুপস্থিতি। দেব (দীপক অধিকারী), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয় এবং অরূপ চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে না থাকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
দলের সাফাই বনাম রাজনৈতিক সমীকরণ
এই অনুপস্থিতি ঘিরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা অন্তর্কোন্দলের জল্পনা দানা বাঁধলেও তা উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি তাঁরা প্রত্যেকেই আগে থেকে শীর্ষ নেতৃত্বকে নিজেদের পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত বা পেশাগত কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন। অনুমতি নিয়েই তাঁরা অনুপস্থিত থেকেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুক্তিকে পুরোপুরি মানতে নারাজ। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলের প্রথম বড় মাপের ‘পোস্টমর্টেম’ বৈঠকে একাধিক তারকা প্রচারকের একযোগে গরহাজিরাকে তাঁরা সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন না।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও দলীয় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি
নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর যখন দলের অন্দরের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই অনুপস্থিতি দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এই ঘটনা তৃণমূলের আগামী দিনের রণকৌশল এবং টলিউড ব্রিগেডের সঙ্গে দলের সম্পর্কের সমীকরণে কোনো বড় পরিবর্তন আনে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনিক স্তরে রদবদল এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির এই আবহে তারকা মুখগুলোর এমন দূরত্ব আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ে দলের ঐক্যবদ্ধ ভাবমূর্তির সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
