কেন উনুন জ্বলে না রান্না পুজোয়? অরন্ধন উৎসবের সঠিক সময়সূচি ও নিয়মকানুন – এবেলা
September 17, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
September 17, 20268:30 am
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অত্যন্ত ঘরোয়া ও বৈচিত্র্যময় এক লোকাচার হলো রান্না পুজো বা অরন্ধন। এই উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য—পুজোর দিন বাড়ীর উনুন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। আগের দিন রাতে রান্না সেরে পরদিন বাসি খাবার খাওয়ার এই নিয়ম মূলত দেবী মনসার আরাধনার সঙ্গেই যুক্ত।
২০২৬ সালের রান্না পুজোর সময়সূচি
- তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার (৩১ ভাদ্র)।
- উপলক্ষ: ভাদ্র সংক্রান্তি, শ্রীশ্রী বিশ্বকর্মা পুজো ও মা মনসার পূজা।
অরন্ধনের নিয়ম ও লোকাচার
- আগের রাতে প্রস্তুতি: বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন রাতে অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে সারারাত জেগে সমস্ত পদ রান্না করা হয়। পুজোর দিন নতুন করে উনুন জ্বালানো নিষেধ।
- মনসা ঘট স্থাপন: রান্নাঘরের নির্দিষ্ট জায়গা পরিষ্কার করে ফণিমনসা বা শালুক গাছের ডাল সাজিয়ে দেবী মনসার ঘট বসানো হয়। অনেক পরিবারে পাঁচ ফণাযুক্ত সাপের মূর্তি বা প্রতিমা গড়েও পুজো করা হয়।
- বাসি মুখে ভোজ: “ভাদ্রে রান্না, আশ্বিনে (পরদিন) খাওয়া”—এই রীতি মেনেই আগের দিনের রান্না করা খাবার প্রথমে দেবীকে নিবেদন করে পরিবারের সকলে গ্রহণ করেন।
রান্না পুজোর ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকা অরন্ধনের খাবারে বাংলার খাঁটি ঘরোয়া স্বাদের বৈচিত্র্য দেখা যায়:
- প্রধান খাবার: পান্তা ভাত (এই পার্বণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ)।
- আমিষ পদ: সর্ষে ইলিশ, ইলিশ মাছ ভাজা, চিংড়ি মাছের বিভিন্ন পদ।
- নিরামিষ পদ: পাঁচ রকমের সবজি ভাজা, ছোলা-নারকেল দিয়ে কচুশাক, রকমারি শাক, মুগ ও খেসারির ডাল।
- মিষ্টি ও চাটনি: চালতা-গুড়ের চাটনি, তালের বড়া ও রসে ডোবা মালপোয়া।
মূলত এদেশীয় বা ঘটি বাঙালিদের মধ্যে প্রচলিত এই নিয়ম আজও শহরতলি ও গ্রামবাংলায় সমান উৎসাহে পালিত হয়। মহালয়া ও দুর্গাপুজোর ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে এই উৎসব যেন শারদীয় আগমনীরই এক সুস্বাদু সূচনা।
