কেন বাংলায় হারছেন মমতা? পরিসংখ্যান দিয়ে বড় দাবি অমিত মালব্যর, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই জয়ের সমীকরণ নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেছে বিজেপি। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেছেন, এবার বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় নিশ্চিত। তাঁর মতে, বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার দ্বিতীয় দফার কেন্দ্রগুলিতে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ১১.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কার্যত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের এই দফায় আগের চেয়ে প্রায় ৯ লক্ষ ৪৩ হাজার অতিরিক্ত ভোট পড়েছে।
কেন জয়ের আশায় বিজেপি
অমিত মালব্যর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের পর বছর তৃণমূলের ক্ষমতার উৎস ছিল সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক। তবে এবার বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটারের অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে, হিন্দু ভোটাররা জোটবদ্ধ হয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এছাড়া ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো, মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের বাদ দেওয়ার ফলে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষ এবার ভয়হীনভাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন।
জনমতের নেপথ্যে একাধিক ইস্যু
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, সন্দেশখালি বা আরজি করের মতো সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ভোটারদের বুথমুখী করেছে। অমিত মালব্যর দাবি, এবারের ভোট কেবল রাজনৈতিক লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল মানুষের মর্যাদা ও স্থায়ী সরকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। গণনার দিন যত এগিয়ে আসছে, জনমত পরিবর্তনের এই ধারা আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয় দফায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে ১১.৯ শতাংশ বা প্রায় ৯ লক্ষ ৪৩ হাজার।
- হিন্দু ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণকে তৃণমূলের পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে বিজেপি।
- সন্দেশখালি ও আরজি করের মতো ঘটনা ভোটারদের মনস্তত্ত্বে বড় প্রভাব ফেলেছে।
- ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ পড়ায় স্বচ্ছ জনমতের দাবি অমিত মালব্যর।
