কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে সুমিত রায়! অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কেন এত জল্পনা? – এবেলা

কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে সুমিত রায়! অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কেন এত জল্পনা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে মাঝরাতে পুলিশের নাটকীয় তল্লাশি ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ও কলকাতা পুলিশের এই যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন অভিষেকের দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক ও ব্যক্তিগত সচিব সুমিত রায়। মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেললেও শেষ পর্যন্ত সুমিতের খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনার খবর পেয়ে তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্ব ও খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও থমথমে হয়ে ওঠে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জালিয়াতির শেকড় ও বিপুল আর্থিক লেনদেন

এই ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ও খড়্গপুর এলাকায় একটি সুপরিকল্পিত জমি কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে। গত জুন মাসে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ ওঠে, ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের বহু সরকারি জমি এমনকি অস্তিত্বহীন কাল্পনিক ব্যক্তিদের জমি ভুয়ো দলিল, জাল সিল ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে বিক্রি করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখার পর দেখা যায়, জমি হাতানোর কোটি কোটি টাকা সরাসরি সুমিত রায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। অভিষেকের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এই সহকারীর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আর্থিক লেনদেনের তথ্যই পুলিশকে এই ম্যারাথন অভিযানে বাধ্য করেছে।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই কোটি টাকার ভুয়ো জমি সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে আসার ফলে প্রশাসনের অন্দরেও বড়সড় কম্পন সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের একাংশের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া এত বড় জালিয়াতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুমিত রায় নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন কি না, তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নের বিষয়। এই ঘটনা একদিকে যেমন শাসক দলের ভাবমূর্তি ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে, অন্যদিকে তেমনই ভূমি দপ্তরের স্বচ্ছতা নিয়ে আগামী দিনে আইনি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সুমিত রায় আপাতত অধরা থাকলেও, এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়াতে পুলিশি নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *