কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে নৃশংস খুন! দুই প্রেমিকের লড়াইয়ে কেন বলি হলেন বীরু? চিনে নিন রহস্যময়ী রিনাকে – এবেলা

কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে নৃশংস খুন! দুই প্রেমিকের লড়াইয়ে কেন বলি হলেন বীরু? চিনে নিন রহস্যময়ী রিনাকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলায় সিশোয়ারা ব্রিজের নিচে গত ৭ মে উদ্ধার হওয়া এক পচা-গলা লাশকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া রহস্যের জট খুলেছে পুলিশ। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হওয়া রিনা প্যাটেল নামের এক নারীর জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা উচ্চাকাঙ্ক্ষা, একাধিক প্রেম আর চরম প্রতিহিংসার পরিণাম হিসেবেই খুন হতে হয়েছে রাজস্থানের যুবক বীরু ওরফে পাপ্পু জাটকে। রাইসেনের পুলিশ সুপার আশুতোষ গুপ্ত গত ১০ মে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর্দা উন্মোচন করেন।

শৈশবের প্রেম আর কোটি টাকার বিলাসিতা

নাসিংপুর জেলার মেয়ে রিনার শৈশব ছিল ট্র্যাজেডিতে ভরা। জন্মের আগেই বাবাকে হারানো আর মায়ের আত্মহত্যার পর মাসির কাছে বড় হওয়া রিনার ১৬ বছর বয়সেই একপ্রকার জোরপূর্বক বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর সংসার ও এক সন্তান হওয়ার পর স্বামীর ঘর ছেড়ে নাসিংপুরে থাকতে শুরু করেন তিনি। সেখানে আবারও তার জীবনে ফিরে আসেন শৈশবের প্রেমিক অরুণ প্যাটেল। ফিন্যান্স কো ম্পা নিতে কর্মরত অরুণ রিনার প্রেমে এতটাই অন্ধ ছিলেন যে, তার নামে ১ কোটি টাকার এফডি, ৫০ লাখের বাড়ি, প্রচুর সোনা ও দামী গাড়ি উপহার দেন। সেই বিলাসবহুল জীবনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিতেই রিনার সাথে পরিচয় হয় রাজস্থানের বীরু জাটের।

ত্রিকোণ প্রেম ও প্রতিহিংসার বিষবাষ্প

২০২২ সাল থেকে বীরুর সাথে রিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বীরু পেশায় বালু ব্যবসায়ী হওয়ায় প্রায়ই রিনার বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এদিকে ২০২৪ সালে অরুণ যখন জানতে পারেন যে রিনা বীরুর সাথেও সম্পর্কে লিপ্ত, তখন থেকেই প্রতিহিংসার আগুন জ্বলতে শুরু করে। একদিকে কোটি টাকা খরচ করা প্রেমিকের ঈর্ষা আর অন্যদিকে নতুন প্রেমিকের টান—এই টানাপোড়েনের শেষ পরিণতি হিসেবে বীরুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

হত্যার নৃশংসতা ও পুলিশের তদন্ত

তদন্তে জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল বীরুকে দেখা করার কথা বলে নিজের ভাড়া বাড়িতে ডাকেন রিনা। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা অরুণ ও তার সহযোগী হরনাম কিরাড় বীরুর মাথায় বেসবল ব্যাট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর মৃতদেহ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে একটি খাদের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পচন ধরায় লাশের পরিচয় পাওয়া দুঃসাধ্য ছিল, কিন্তু ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি স্কুল ব্যাগের নোটবুক পুলিশের জন্য তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়ায়। ওই নোটবুকটি ছিল রিনার ১০ বছর বয়সী ছেলের। সেই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ উজ্জয়িনীর একটি হোটেল থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

রিনা প্যাটেল ও তার দুই সহযোগীকে বর্তমানে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এই অবৈধ সম্পর্ক ও বিলাসিতার মোহ শেষ পর্যন্ত একটি করুণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *