“ক্যামাক স্ট্রিটই সব শেষ করে দিল!” অভিষেককে তোপ দেগে বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: ফের তৃণমূলের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর ‘ক্যামাক স্ট্রিট’-এর দিকে আঙুল তুললেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “ক্যামাক স্ট্রিটই আমাদের শেষ করে দিল।” একইসঙ্গে আই-প্যাক সংস্থা এবং দলের একাংশ ‘ঋতব্রতপন্থী’ নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি।
কী বললেন কল্যাণ? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দলের অনেক কর্মী এখন পুলিশের নিশানায়। কল্যাণের কথায়, “যাঁরা সুমিত রায়ের সঙ্গে সংগঠনের বিষয়ে কথা বলতেন, তাঁদের এখন ডেকে পুলিশ ভয় দেখাচ্ছে। বলা হচ্ছে, হয় ঋতব্রতের শিবিরে যাও, নয়তো জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।” এই পুরো পরিস্থিতির জন্য তিনি অভিষেকের দফতরকেই দায়ী করেছেন।
সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে তোপ: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বর্তমানে যাঁরা অভিষেকের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তাঁরাই একসময় তাঁর কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আজ যাঁরা বিদ্রোহী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তাঁরাই একসময় আই-প্যাককে মাথায় তুলেছিলেন। সুমিতের সঙ্গে দুবার কথা বললেই তাঁরা নিজেদের ধন্য মনে করতেন।” ২০২২ সালে যখন তিনি আই-প্যাকের বিরোধিতা করেছিলেন, তখন দলের এই অংশই তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করেছিল বলে দাবি কল্যাণের। তাঁর মতে, সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে না থাকলে দল ছাড়তে হতো তাঁকে।
পাল্টা তোপ ঋতব্রতপন্থীদের: কল্যাণের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র কোহিনূর মজুমদার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কল্যাণবাবু কি মালিকের (অভিষেক) বিরুদ্ধে সরাসরি বলতে ভয় পাচ্ছেন? যখন তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়েছিল, তখন তো তিনি চুপ ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আই-প্যাককে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। কল্যাণবাবুর উচিত, লম্বা আয়না রেখে আগে নিজের মুখ নিজে দেখা।”
