ক্ষমতাসীনদের অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে কোনো অনুতাপ নেই, সাফ জানালেন অভিনেত্রী তৃণা সাহা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ বা তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তারকাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও কটাক্ষ এখন নিত্যদিনের ঘটনা। চোর-চোর স্লোগান থেকে শুরু করে নানা ধরনের বিশেষণে বর্তমানে বিদ্ধ হতে হচ্ছে অনেক অভিনেতা-নেত্রীকে। এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন শাসক দলের জোর-জুলুম নিয়ে যখন বিনোদন জগতের অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন এবং দাবি করছেন যে তাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হতো, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত সুর শোনা গেল জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী তৃণা সাহার গলায়। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ কিংবা বিজয়া কার্নিভালের মতো দলীয় ও সরকারি অনুষ্ঠানে নিজের উপস্থিতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সেখানে যাওয়ার পেছনে কোনো জোর-জবরদস্তি ছিল না এবং এই নিয়ে তাঁর কোনো অনুতাপও নেই।
স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ নাকি পরোক্ষ চাপ
টলিউড ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের সমীকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ না হলে কাজ পাওয়া যেত না কিংবা পেটের দায়ে অনেককে শাসক দলকে সমর্থন করতে হতো—এমন অভিযোগ এখন প্রকাশ্যেই আনছেন বিনোদন জগতের একাংশ। তবে তৃণা সাহা এই ‘জোর করার’ তত্ত্বকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, যারা এখন চাপের মুখে যাওয়ার কথা বলছেন, তাঁরা হয়তো কোনো কারণে সত্য গোপন করছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কাউকে বন্দুকের মুখে রেখে বা টাকার লোভ দেখিয়ে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়নি। যারা গিয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের ছিল। যদি কোনো ভয় বা চাপ থাকত, তবে তা তখনই প্রকাশ করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন।
চলতি বিতর্কের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির মূল কারণ হলো ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক বিভাজন এবং সাধারণ মানুষের তীব্র সমালোচনা থেকে নিজেদের বাঁচানোর চেষ্টা। অনেক শিল্পীই এখন পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংযোগ অস্বীকার করে নিজেদের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করার চেষ্টা করছেন। তৃণা সাহার এই মন্তব্য সেইসব তারকাদের চরম অস্বস্তিতে ফেলবে, যারা ‘বাধ্য হয়ে’ অনুষ্ঠানে যাওয়ার অজুহাত দিচ্ছিলেন। এর সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোর তারকা-নির্ভর প্রচারের ক্ষেত্রেও শিল্পীরা ভবিষ্যতে আরও সতর্ক পদক্ষেপ নেবেন, যা টলিউড এবং রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
