ক্ষমতা বদল নাকি ব্যক্তিগত কারণ, বিচ্ছেদ বিতর্কে এবার মুখ খুললেন জুঁই বিশ্বাস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস ও তাঁর স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই গুঞ্জন শুরু হয় যে, স্বামী স্বরূপ বিশ্বাস রাজনৈতিক প্রভাব হারানোতেই জুঁই বিশ্বাস এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তৃণমূলের অন্দরে চলা এই তীব্র চর্চা ও জল্পনার জবাবে অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বয়ং কাউন্সিলর। সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি একে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যে’ ও তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক পালাবদল ও বিচ্ছেদের সম্পর্ক
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি ছিল, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের আগে পর্যন্ত টলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। কিন্তু দল পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তিনি জনসমক্ষ থেকে আড়ালে চলে যান। ঠিক এই সময়েই জুঁই বিশ্বাসের বিচ্ছেদের ঘোষণা রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করছিল। তবে এই তত্ত্ব খারিজ করে জুঁই বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরকার বদলের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, ২০১৯ সাল থেকেই তাঁরা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে আলাদা থাকছেন এবং চলতি বছরের শুরু থেকেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও প্রথম থেকেই এই বিষয়ে অবগত ছিলেন। কোভিডের পর থেকে তাঁদের ঠিকানা সম্পূর্ণ আলাদা এবং ২০১৯ সালের পর কোনো দলীয় মঞ্চেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়নি।
মেসি ইভেন্ট বিতর্ক ও শতদ্রু দত্তর পোস্ট
বিবাহবিচ্ছেদের পাশাপাশি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি ইভেন্ট নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছেন জুঁই বিশ্বাস। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে, মেসিকে তিনি কেবল এক ঝলক দেখেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার কোনো চেষ্টা করেননি। তবে সম্প্রতি ইভেন্ট সংগঠক শতদ্রু দত্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে জুঁই বিশ্বাসকে মেসির পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এই ভিডিও প্রসঙ্গে জুঁই বিশ্বাস পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানিয়েছেন, শতদ্রু দত্তর কাছে যদি নিয়ম ভেঙে অনুষ্ঠানে ঢোকার কোনো তথ্যপ্রমাণ থাকে, তবে তিনি আদালতে যেতে পারেন। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার আহ্বান জানিয়ে এই বিতর্কে আর জড়াতে চান না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই তৃণমূল কাউন্সিলর।
