ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে নজিরবিহীন নিরাপত্তা! ঘিরে ফেলা হল গার্ডরেলে, কড়া নজর কেন্দ্রীয় বাহিনীর

স্ট্রংরুমে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। গতরাতের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পর শুক্রবার সকাল থেকেই গোটা এলাকা গার্ডরেল দিয়ে মুড়ে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ‘অপ্রয়োজনীয়’ ব্যক্তিদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সেখানে নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তার স্বার্থে শুধুমাত্র ডিউটিতে থাকা নির্বাচনী আধিকারিক ছাড়া অন্য কারো প্রবেশাধিকার নেই।
বিক্ষোভ ও কারচুপির অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে, যখন বেলেঘাটা ও শ্যামপুকুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা স্ট্রংরুমে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে দাবি করা হয়, সিল করা ঘরের ভেতরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের দেখা গেছে। পোস্টাল ব্যালট বদলে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রার্থীরা কেন্দ্রের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। এই বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় সেখানে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
কমিশনের কড়া দাওয়াই ও বর্তমান পরিস্থিতি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং স্ট্রংরুমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গসহ নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে নিরাপত্তার জন্য এবার ‘ইসিআই-নেট’ নামক একটি বিশেষ ডিজিটাল মডিউল চালু করা হয়েছে। কমিশনের এই কড়া অবস্থান ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কঠোর প্রহরার ফলে বর্তমানে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। এই বাড়তি নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য হলো গণনার আগে ব্যালট বক্সের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো।
এক ঝলকে
- কারচুপির অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থীদের অবস্থান ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র।
- নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুরো কেন্দ্রটি গার্ডরেল ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ডিজিটাল মনিটরিং ও বহিরাগতদের প্রবেশে জারি করা হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা।
- স্ট্রংরুমের সুরক্ষা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
