খালি গায়ে ঘুমানোর অভ্যাস কি আসলেই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাতের বেলা শান্তির ঘুমের খোঁজে অনেকেই পোশাকের বোঝা কমিয়ে হালকা হতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে রাতে খালি গায়ে ঘুমানোর প্রবণতা বেশ সাধারণ। তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে বা আরামদায়ক ঘুমের জন্য এই অভ্যাসটি বেছে নেওয়া হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ঘুম বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও প্রভাবের কথা জানিয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অভ্যাসের যেমন কিছু চমৎকার স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে, তেমনই অসতর্কতায় রয়েছে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
শারীরিক উপকারিতা ও গভীর ঘুম
চিকিৎসকদের মতে, মানুষের দ্রুত ও গভীর ঘুমে যাওয়ার জন্য শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়া প্রয়োজন। খালি গায়ে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা প্রাকৃতিকভাবেই দ্রুত হ্রাস পায়, যা মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। ফলে অনিদ্রার সমস্যা কমে এবং ঘুম গভীর হয়। এছাড়া সারাদিন আঁটসাঁটো পোশাকের কারণে ত্বক সঠিকভাবে বাতাস পায় না। রাতে পোশাকহীন অবস্থায় ত্বক সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে আসায় ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ত্বকের সঙ্গে বিছানার চাদরের সরাসরি স্পর্শে শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে এবং মানসিক চাপের হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এমনকি শীতল পরিবেশে ঘুমানোর ফলে শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধি পায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।
সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সতর্কতা
উপকারিতার পাশাপাশি এই অভ্যাসের কিছু নেতিবাচক দিক সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। খালি গায়ে ঘুমালে বিছানার চাদরে জমে থাকা ধুলোবালি ও ডাস্ট মাইট সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। ফলে যাঁদের কোল্ড অ্যালার্জি বা ত্বকে র্যাশের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চুলকানি বা হাঁচির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। আবার এসি বা ফ্যানের তীব্র বাতাসের নিচে খালি গায়ে ঘুমালে ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে গিয়ে সর্দি-কাশি বা পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া শরীরের ঘাম ও তেল সরাসরি চাদরে শোষিত হওয়ার কারণে বিছানা দ্রুত নোংরা হয়, যা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা খালি গায়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে বিছানার পরিচ্ছন্নতা ও ঘরের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন।
