খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল স্পোর্টসে বাজিমাত বাংলার, ছত্তিশগড়কে হারিয়ে ফুটবলে ভারতসেরা রঞ্জন-ব্রিগেড

খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল স্পোর্টসে বাজিমাত বাংলার, ছত্তিশগড়কে হারিয়ে ফুটবলে ভারতসেরা রঞ্জন-ব্রিগেড

জাতীয় স্তরের প্রথম খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল স্পোর্টস প্রতিযোগিতার ফুটবলে ইতিহাস গড়ল বাংলা। রায়পুরের কোটায় স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেগা ফাইনালে শক্তিশালী ছত্তিশগড়কে ১-০ গোলে পরাজিত করে সোনা জিতল রঞ্জন ভট্টাচার্যের প্রশিক্ষণাধীন দল। বাংলার হয়ে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন চাকু মান্ডি। সেমিফাইনালে গোয়াকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর ফাইনালে স্বাগতিক দলকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠ ছাড়ল লাল-হলুদ-সাদা জার্সিধারীরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বাংলা। যদিও ১২ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি মিস করে সুযোগ নষ্ট করেন বিজয় মুর্মু। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ফের পেনাল্টি পায় বাংলা, যা থেকে গোল করতে ভুল করেননি চাকু মান্ডি। দ্বিতীয়ার্ধে ছত্তিশগড় ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও বাংলার রক্ষণভাগ ছিল অটুট। দিলীপ ওরাওঁ ও অমিত টুডুদের জমাট রক্ষণের সামনে হার মানতে হয় প্রতিপক্ষকে। সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৩০০০ ক্রীড়াবিদ ও ৩০টি রাজ্যের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলার ফুটবলারদের এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

দলের এই ঐতিহাসিক জয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। ৫ বছর আগে সন্তোষ ট্রফি ফাইনালে হারের আক্ষেপ মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, এই জয় তাঁর পুরনো ক্ষতে প্রলেপ লাগাল। কাকতালীয়ভাবে এদিন ছিল রঞ্জনবাবুর মাতৃবিয়োগের দিন। জয় শেষে তিনি বলেন, “আজকের দিনে ৪০ বছর আগে মাকে হারিয়েছিলাম। চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই যন্ত্রণা যেন কিছুটা কমল। সব কৃতিত্ব ফুটবলারদের, যারা টুর্নামেন্ট জুড়ে চরম শৃঙ্খলা ও দাপট বজায় রেখেছে।”

পেশাদারী ফুটবলের আঙিনায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিভাদের তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এই খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস ২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছিল। মোট ৭টি বিভাগের খেলার মধ্যে ফুটবলে বাংলার এই ট্রফি জয় রাজ্যের ক্রীড়ামহলে খুশির হাওয়া নিয়ে এসেছে। কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং বাংলার ফুটবলের আগামী দিনের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *